ভারতীয় ড্রেসিংরুমের বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে বিস্ফোরক শিবরামকৃষ্ণন

Mar 26, 2026 - 10:25
 11
ভারতীয় ড্রেসিংরুমের বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে বিস্ফোরক শিবরামকৃষ্ণন

কিশোর বয়স থেকেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। এমনকী ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমের বদলে তাঁকে বেশিরভাগ সময় পড়ে থাকতে দেখা যেত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাজঘরে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন এমনই জানিয়েছেন। দিন কয়েক আগে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে ২৩ বছর ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। গায়ের রঙের জন্য বিসিসিআই তাঁকে প্রাধান্য দেয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন। এবার জানিয়েছেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে চিপক স্টেডিয়ামে নেট বোলার হিসাবে যোগ দেওয়ার সময় এক সিনিয়র ক্রিকেটার তাঁকে জুতো পরিষ্কার করতে বলেছিলেন। জবাবে শিবরামকৃষ্ণন বলেন, “ওর দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘ওটা আমার কাজ নয়, আপনি নিজের কাজ নিজেই করুন’।” ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাঁর সংযোজন, “তখন বর্ণবিদ্বেষ বা গায়ের রং নিয়ে বঞ্চনা কী, তা বুঝতাম না। শুধু মনে হয়েছিল, উনি এমন আচরণ করলেন কেন।” পরবর্তীতেও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। তামিলনাড়ু দলে খেলার সময় সতীর্থদের কাছ থেকে ‘শ্রীহীন’ বলে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তাঁকে। দেশের বিভিন্ন মাঠে দর্শকদের কাছ থেকেও গায়ের রং নিয়ে বিদ্রূপের শিকার হন তিনি। সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি হিসাবে উঠে আসে তাঁর ১৭তম জন্মদিনের ঘটনা। এক সিনিয়র ক্রিকেটার কেকের রং নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “এই যে সানি, তুমি একেবারে ঠিক রঙের কেক এনেছ। কালো ছেলের জন্য চকোলেট কেক এনেছ।” এই মন্তব্যে ভেঙে পড়েন তরুণ শিব। তাঁর কথায়, “আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম, কেক কাটতেও চাইনি।” পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন সুনীল গাভাসকর। তিনি বলেন, “গাভাসকর আমাকে শান্ত করেন। তারপর চোখে জল নিয়েই কেক কাটতে হয়।” তাছাড়াও তিনি জানান, পাকিস্তান সফরে দলের সঙ্গে গেলেও ১৯৮৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। পাকিস্তানে গিয়ে তাঁকে গায়ের রঙের কারণে হেনস্তা হতে হয়েছিল। তার প্রভাবও পড়েছিল। ক্যারিবিয়ান সফরে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাজঘরেই থাকতেন শিবরামকৃষ্ণন।প্রাক্তন স্পিনার বলেন, “ওদের দলে সবার গায়ের রং কালো। তাই ওরা এটা নিয়ে কিছু ভাবত না। নিজেদের মধ্যে মজা করত। আমারও তাই ওদের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগত। ওরাও আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। ডেসমন্ড হেনস ও ম্যালকম মার্শাল আমাকে প্রত্যেক দিন ঘুরতে নিয়ে যেত। খেলার পর আমরা ড্রেসিংরুমে স্নান করতাম। তারপর আমাদের দলের ম্যানেজারের কাছে অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম।”