নেতারা আসে প্রতিশ্রুতি নিয়ে, নদী আসে ভিটে কেড়ে নিতে!" ৪০ বছর ধরে ভাঙছে কাকদ্বীপের নাদাভাঙা

Apr 8, 2026 - 13:22
 21
নেতারা আসে প্রতিশ্রুতি নিয়ে, নদী আসে ভিটে কেড়ে নিতে!" ৪০ বছর ধরে ভাঙছে কাকদ্বীপের নাদাভাঙা

অমিত মণ্ডল, কাকদ্বীপ: গ্রামের রাস্তায় পিচ পড়েছে, মোড়ে মোড়ে জ্বলেছে বৈদ্যুতিক বাতি। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এই আলো নয়, নদী ভাঙনের শব্দই তাড়া করে বেড়ায় কাকদ্বীপ বিধানসভার নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাদাভাঙা এলাকার বাসিন্দাদের। গত ৪০ বছরে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কাকদ্বীপ বিধানসভার নাদাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দাদের এখন একটাই জোরালো দাবি আগে গ্রাম বাঁচান! স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, নাদাভাঙার ভৌগোলিক পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। নদী যত এগোচ্ছে, ততই মানুষ ঘরবাড়ি ভেঙে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। গ্রামবাসী সুভাষ মান্না ও আনন্দ শিকদারের আক্ষেপ, "রাস্তা-ঘাট হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ নদী বাঁধ হয়নি। মাটির বাঁধ দিলেও তা এক বছর টেকে না। তাঁদের দাবি একটাই স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ। ভাঙন কবলিত নাদাভাঙার এই নদী বাঁধ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শাসকদলের দিকে। তাঁর দাবি, "তৃণমূল সরকার নদী বাঁধ নিয়ে শুধু রাজনীতিই করেছে, কাজ করেনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি বাঁধ স্থায়ীভাবে গড়া হবে।"

তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা পাল্টা দায় চাপিয়েছেন কেন্দ্রের ওপর। তিনি বলেন, "নদী বাঁধ নির্মাণে কেন্দ্র একটা টাকাও দেয় না, যা হয় রাজ্যের নিজস্ব তহবিলে। ওই নদী অত্যন্ত খরস্রোতা হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা হাল ছাড়িনি, আগামীতে উন্নত প্রযুক্তিতে স্থায়ী সমাধান হবে।"

প্রার্থীদের এই প্রতিশ্রুতি কি নাদাভাঙার বাসিন্দাদের মনে ভরসা জোগাতে পারবে? নাকি প্রতি বছরের মতো এবারও ভোেট মিটে গেলে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতি নদীর জলে ধুয়ে যাবে...?