বীরভূমের মহম্মদবাজারে পরিবর্তন যাত্রার জনসভা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ সৌমিত্র খাঁর
বীরভূমের মহম্মদবাজারে পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষে জনসভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বীরভূম জেলা। এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে বীরভূমের মানুষকে জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র যেতে হবে না।
সভা থেকে তিনি দাবি করেন, বীরভূমের দুই নেতা কেষ্ট মণ্ডল ও কাজল শেখ একে অপরকে চোর বলছে। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমকে কি মামারবাড়ি মনে করে বোম উপহার দিয়েছেন?”
সৌমিত্র খাঁ অভিযোগ করেন, বীরভূমের মানুষের কষ্ট কখনও বিধানসভায় তুলে ধরেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি পদে না থেকেও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বীরভূমকে নতুন নতুন ট্রেন উপহার দিচ্ছেন।
পরিবর্তন যাত্রার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই এই কর্মসূচি। পাশাপাশি কেষ্ট ও কাজলের দুর্নীতি রুখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুরনো তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে সৌমিত্র খাঁর আহ্বান, এই ‘চোরদের’ সরিয়ে বিজেপিতে যোগ দিন। যুবসাথী প্রকল্প নিয়েও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এই ভাতা কেউ পাবে না, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফর্ম পূরণ করানো হয়েছে।
অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “অনুব্রত মণ্ডল, আপনার লজ্জা লাগে না? মেয়েকে নিয়ে জেলে গিয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের সময় অনুব্রত মণ্ডলকে ব্যবহার করবে।
এদিন সভা থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম সমাজকে ব্যবহার করছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল করলে কেউ সুখে থাকে না। বিজেপির প্রার্থী পদ্মফুল প্রতীকেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটে কেউ অনিয়ম করলে, সে আইসি হোক বা বিডিও—তাদের বদলি করে দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের আধিকারিকরা নাম বাদ দিয়েছে। শেষমেশ তিনি বলেন, সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানেই তৃণমূলকে ভোট দেওয়া।