ফ্রেজারগঞ্জে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে শাশুড়িকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ
অমিত মণ্ডল, ফ্রেজারগঞ্জ: পরকীয়া সম্পর্কের পথে কাঁটা সরাতে নিজের শাশুড়িকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে এবং গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বৌমার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার উত্তর দেবনিবাস এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর দেবনিবাস এলাকায় বলাকা ঘড়ুই (৬০) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা মনে হলেও, দেহ নামানোর সময় দেখা যায় ওই বৃদ্ধার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর পরেই রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করে। শুক্রবার সকালে তল্লাশি চলাকালীন বৃদ্ধার বাড়ির ভেতর থেকে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়। দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত বৌমার সঙ্গে এক যুবকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। সেই আক্রোশ থেকেই বুধবার রাতে শাশুড়িকে কুপিয়ে খুনের পর দেহটি বাইরে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু
চেষ্টা করা হয়। পরিবার সূত্রের খবর, ঘটনার আগের দিন রাতে শাশুড়ি এবং স্বামীর সঙ্গে তুমুল ঝামেলা হয়। রাতে অভিযুক্ত ওই গৃহবধুর স্বামী বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওই বৃদ্ধাকে নিশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অনুমান। দেহ উদ্ধার ও তদন্তের
শুরুতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। শুক্রবার সকালে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ গ্রামে পৌঁছালে
করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে বৌমাকে গ্রেফতার
করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনার পর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বৌমাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বৌমাকে জেরা করা হচ্ছে। এই খুনের পিছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।