দিল্লি বিস্ফোরণে দায়ী আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই! রিপোর্টে দাবি রাষ্ট্রপুঞ্জের
দিল্লি বিস্ফোরণের জন্য আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-কেই দায়ী করল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। অভিযোগ, এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা (সেল) বিস্তারের চেষ্টা করছিল।গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য।গত মে মাসে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। চার্জশিটে বলা হয়, আনসার-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এক সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উঠে এল দিল্লির গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ।
চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাকশনস মনিটরিং টিম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই।
রিপোর্টের ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, এলাকাভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা। বড় কোনও ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ছোট বিক্ষিপ্ত কিছু ‘সেল’ বা শাখার মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করছে তারা। নিজস্ব লজিস্টিক এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এমনকি এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা বিস্তারের চেষ্টা করছিল বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে।গত বছরের নভেম্বরে গুজরাতের অহমদাবাদ থেকেও তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ওই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এই রাসায়নিক জৈব অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। ওই ঘটনার তদন্তেও জঙ্গিদের ‘আইএস’ যোগের কথা উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থার উদ্বেগ, আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) অনেক দিন ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত বাধার কারণে তারা এখনও সেই অস্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি।