ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ইস্টবেঙ্গল। রবিবার যুবভারতীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ১-০ গোলে হারাল তারা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন পিভি বিষ্ণু।জিতলেও গোটা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ নষ্টের যে বহর দেখা গিয়েছে, তা যথেষ্ট চিন্তায় রাখবে কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসকে। গোটা ম্যাচে সব সুযোগ কাজে লাগালে অন্তত আধ ডজন গোলে জিততে পারত লাল-হলুদ। দানি রামিরেজ়, জেসিন টিকে, বিপিন সিংহ সকলেই প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছেন। যে দল কিছু দিন আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে কুয়েতের আল-আরবিকে এত বড় ব্যবধানে হারিয়েছে, তাদের থেকে এমন খেলা খুবই অবাক করা। তার উপর বিদেশিহীন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলাও যে খুব নজর কেড়েছে, তা নয়।ম্যাচের শুরুতেই সহজতম সুযোগ নষ্ট করেন দানি রামিরেজ়। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে ঢুকে পড়ে রামিরেজ়কে পাস দিয়েছিলেন ডেভিড লালানসাঙ্গা। বল ধরে বিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও সরাসরি তাঁর হাতেই বল তুলে দেন রামিরেজ়। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়া ফুটবলারের গোল করা উচিত ছিল।
দু’মিনিট পরেই বিপদ থেকে বাঁচে ইস্টবেঙ্গল। সেনাবাহিনীর অভিষেক বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন। কোনও মতে সেই বল বারের উপর দিয়ে বার করে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা। ১৯ মিনিটের মাথায় ভাল সুযোগ তৈরি করেছিলেন রামিরেজ়। বিপক্ষের দু’জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পাস বাড়িয়েছিলেন ডেভিডের উদ্দেশে। ডেভিডও ড্রিবল করে শট করেছিলেন। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দু’মিনিট পরেই দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন লালচুংনুঙ্গা। সেনাবাহিনীর গোলকিপার মাল্লা ভাল সেভ করেন।৩৭ মিনিটে অবশেষে গোলের রাস্তা খুলে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। বাঁ পায়ে ক্রস তুলেছিলেন অস্ট্রেলীয় ফুটবলার ক্রিস ইকোনোমিডিস। দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন বিষ্ণু। পরের মিনিটেই তিনি আঘাত পেয়ে খোঁড়াতে থাকেন। বিরতিতে ইস্টবেঙ্গল ১-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও, আরও বেশি গোল করা উচিত ছিল তাদের।বিরতির পর বিষ্ণুকে তুলে বিপিন সিংহকে নামার ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাস। ৫৫ মিনিটের মাথায় দূর থেকে শট নিয়েছিলেন মহম্মদ রশিদ। তা বারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। ৫৯ মিনিটে পোস্টে লাগে জেসিনের শট। বিপিনের থেকে পাস পেয়েছিলেন জেসিন। তিনি সেনাবাহিনীর রক্ষণকে বোকা বানিয়ে এগিয়ে যান। গোলকিপারকেও কাটিয়ে নেন। তবে তাঁর শট গোলকিপারের হাতে লেগে পোস্টে লাগে। তবে শট নেওয়ার বদলে বক্সে থাকা কোনও সতীর্থকে পাস দিলে সেটি গোল হতে পারত।এর পর দু’-একটি ভাল সুযোগ তৈরি করে সেনাবাহিনী। প্রথমে ৬৪ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে ক্রিস্টোর ক্রসে হেড করেন শিল। তবে বল সরাসরি লাচেনপার হাতে যায়। চার মিনিট পরেই এডমুন্ড লালরিনডিকার পাস থেকে রামিরেজ়ের শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রেও স্পেনীয় ফুটবলারের গোল করা উচিত ছিল। কারণ তিনি যেখানে বল পেয়েছিলেন তখন ধারেকাছে কেউ ছিলেন না।৭৯ মিনিটের মাথায় আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জেসিন। এ বার ডান প্রান্ত থেকে বল বাড়িয়েছিলেন বিপিন। বল সরাসরি জেসিনের পায়ে যায়। তিনি বল নিয়ন্ত্রণই করতে পারেননি। ৮৩ মিনিটের মাথায় বিপিন নিজেই একটি সহজ সুযোগ মিস্ করেন। এ বার বাঁ প্রান্ত থেকে আসা জেসিনের পাস খুব কাছ থেকে গোলের বাইরে মারেন তিনি।