সুন্দরবনকে বাঁচাতে ১ হাজার হেক্টরের পর এবার আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে 'মিনসো ইন্ডিয়া'
অমিত মণ্ডল, নামখানা:
আয়লা, আমফান কিংবা ইয়াস-প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিটি মরণ-কামড় থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় অঞ্চলকে বারবার মায়ের মতো আগলে রেখেছে সুন্দরবনের বুক চেরা সবুজ ম্যানগ্রোভ অরণ্য। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন এবং কিছু অসাধু মানুষের ক্রমাগত লোভের বলী হয়ে আজ ধ্বংসের মুখে সেই প্রাকৃতিক ঢাল। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী দিনে বিশ্ব মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবন। আর সেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে এবার এক বিরাট ম্যানগ্রোভরোপণ ও সচেতনতার কর্মসূচি নিয়ে ময়দানে নামল 'মিনসো ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড'।
শুক্রবার নামখানা ব্লকের হরিপুর এলাকায় সংস্থার পক্ষ থেকে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কয়েক হাজার ম্যানগ্রোভের চারা।
এদিনের এই পরিবেশ সচেতনতা
অনুষ্ঠানে কলকাতার মূল কেন্দ্র থেকে সুন্দরবনের বুকে হাজির হয়েছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। উপস্থিত ছিলেন মিনসো ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কলকাতা ডিভিশনের প্রধান তথা বিশিষ্ট আইনজীবী সোমক শংকর লাহিড়ী, প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ডঃ মধুসূদন পাল, ডেপুটি ম্যানেজার ত্রিভা ভট্টাচার্য, সিনিয়র ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর প্রদীপ পাল, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মলয় নস্কর সহ স্থানীয় সমাজসেবী ও এলাকার সাধারণ মানুষ। কাগজে-কলমে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখার চেনা দুর্নীতির চাদর ফালিফালি করে ভেঙে দিয়ে, বাস্তবে কাজ করে দেখিয়েছেন এই সংস্থার কর্মীরা। 'মিনসো ইন্ডিয়া'র আধিকারিকরা জানান, গত ৩ বছরের নিরলস পরিশ্রমে ইতিমধ্যেই তাঁরা সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, ক্যানিং ও গোসাবার মতো চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১,০০০ হেক্টর জমিতে সফলভাবে ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে তুলেছেন। কিন্তু এখানেই তাঁরা থামতে চান না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুন্দরবনের আরও কয়েক হাজার হেক্টর নদী বাঁধে ও বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যানগ্রোভের নতুন চারা লাগানোর এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এই সংস্থা। পরিবেশবিদরা এদিন হরিপুরের বাসিন্দাদের বোঝান, নদী বাঁধকে টিকিয়ে রাখতে ম্যানগ্রোভের শিকড়ের জুড়ি মেলা ভার। তাই শুধু চারা রোপণ করাই নয়, সেগুলিকে যত্ন করে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে স্থানীয় মানুষদেরই। সরকারি ও বেসরকারি এই যৌথ মানসিকতাই পারে সুন্দরবনের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে।