সাগরে এবার 'ত্রাণ চুরির' মিনি গুদাম! 'সাবধানে থাকুন নেতারা, আরও বেরোবে', চরম হুঁশিয়ারি বিধায়ক সুমন্তর

May 30, 2026 - 15:03
 8
সাগরে এবার 'ত্রাণ চুরির' মিনি গুদাম! 'সাবধানে থাকুন নেতারা, আরও বেরোবে', চরম হুঁশিয়ারি বিধায়ক সুমন্তর

অমিত মণ্ডল, সাগর:

সুন্দর উপকূলে যেন শেষই হচ্ছে না সরকারি ত্রাণ চুরির কঙ্কাল বেরোনোর পর্ব। রুদ্রনগর এবং বামনখালির পর এবার সাগরের খাসরামকর এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও মাছ চাষের পণ্য। ৪ই মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই সরকারি সামগ্রী সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দোকানের তালা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনের। উদ্ধার হওয়া ত্রাণের এই ‘মিনি গুদাম’ ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা বিদায়ী বিধায়ককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন সাগরের নতুন বিজেপি বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাসরামকর এলাকার তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতির দোকানে গত ৪ই মে ফল প্রকাশের পর থেকেই বিপুল পরিমাণ সরকারি জিনিসপত্র গোপনে মজুত করার খবর রটেছিল। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামবাসীরা আগেই ক্ষোভে ওই দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেই তালা খোলা হলে ভেতর থেকে একে একে বেরোতে থাকে সরকারি লুঠের মাল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি সরকারি ত্রিপল, মাছের খাবারের ১১টি বড় বস্তা, ১৩ বস্তা চুন বেশ কয়েকটি এসি নেট। অভিযোগ, ওই এলাকার বুথ সভাপতি দেবাশিস মাইতি বেআইনিভাবে এই সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে এখানে মজুত করেছিলেন। পরে সমস্ত উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে সাগর ব্লকের বিডিও অফিসে পাঠানো হয়েছে।

দোকান থেকে সরকারি চুরির মাল উদ্ধার হওয়া প্রসঙ্গে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “স্থানীয় বুথ সভাপতি দেবাশিস মাইতি ভোটের ঠিক আগে জোর করে আমার দোকানে এই জিনিসগুলো মজুত করে রেখে গিয়েছিলেন। স্থানীয় মানুষজন তা জানতে পেরে আমার দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। আজ সেই তালা খুলতেই সমস্ত সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বেরোল।”

এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সাগরের প্রাক্তন বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরাকে সরাসরি নিশানা করেছেন নতুন বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন,“যিনি আগে সাগরের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সুন্দরবনের সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন করেননি। উন্নয়ন যা হয়েছে, তা হয়েছে তৃণমূলের দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীদের। দুর্গত সাধারণ মানুষের জন্য যে সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা এসেছিল, তার সবটাই আত্মসাৎ করেছে তৃণমূলের নেতারা। অবৈধভাবে এই মালগুলো একটি গুদাম করে রাখা হয়েছিল যাতে ভোটের আগে এগুলো মানুষকে দিয়ে ভোট কেনা যায়। এটা একটা গভীর চক্রান্ত ছিল।”

তৃণমূলের বিদায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সুমন্ত বাবু আরও বলেন, “তথাকথিতভাবে তৃণমূলের যারা দুর্নীতিবাজ নেতা ছিলেন, তাঁরা এবার একটু সাবধানে থাকুন। সময় যত গড়াবে, সাগরের এই দুর্নীতির পাহাড় তত বেশি করে বাইরে বেরোবে। কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধারাবাহিক ত্রাণ চুরির ঘটনার গভীরতা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ সাগরবাসী।