ফ্রান্সের উদ্বেগ এমবাপের চোট, পেনাল্টি নষ্ট করেও চিন্তিত নন কিলিয়ান

Jul 11, 2026 - 14:27
 12
ফ্রান্সের উদ্বেগ এমবাপের চোট, পেনাল্টি নষ্ট করেও চিন্তিত নন কিলিয়ান

মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্পেন। তার আগে ফরাসি শিবিরের উদ্বেগ বাড়াল কিলিয়ান এমবাপের চোট। তা ছাড়া এমবাপের পেনাল্টি নষ্ট হওয়ায় অসন্তুষ্ট ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁ।মরক্কোর বিরুদ্ধে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারেননি এমবাপে। নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট বাকি থাকতেই তাঁকে তুলে নিয়ে জাঁ ফিলিপে মাতেতাকে নামান দেশঁ। গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন এমবাপে। কয়েক বার গোড়ালি ধরে মাঠে বসে পড়লেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও ফ্রান্স কোচ সেমিফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে চাননি। এমবাপের চোট নিয়ে ফ্রান্স শিবির থেকে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরে তিনি নিজেই বলেছেন, ‘‘আমি ঠিক আছি। গোড়ালিতে একটু লেগেছে। এমনি ঠিকই আছে। আর মাতেতা শেষ ১৫ মিনিট আমার চেয়ে বেশি কার্যকর। তাই ওকে নামানো হয়েছিল।’’ ম্যাচের পর দর্শকদের অভিবাদনও গ্রহণ করেন হাসিমুখে।এমবাপে স্বাভাবিক থাকলেও তাঁর পেনাল্টি নষ্ট হওয়ায় খুশি নন দেশঁ। ২৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। এমবাপে অনেকটা দৌড়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে পড়েন। সেখানে তাঁকে ফাউল করেন নৌসের মাজরাউই। এতটাই স্পষ্ট ছিল সেই ফাউল যে রেফারির সিদ্ধান্তে মাজরাউই নিজেই বিশেষ প্রতিবাদ জানাননি। অথচ সেই পেনাল্টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই সময় লাগল তিন মিনিট ১০ সেকেন্ড। ভার-এর রেফারিদের রিপ্লে দেখা যেন শেষই হচ্ছিল না। অবশেষে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সম্ভবত এতটা বেশি সময় লাগার কারণেই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছিল এমবাপের। জীবনের সবচেয়ে খারাপ পেনাল্টিটা মারেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক বোনো এমনিতেই পেনাল্টি বাঁচানোর ব্যাপারে দক্ষ। তাঁর বাঁ দিকে এমবাপের নিচু শট এতটাই ধীরগতির ছিল যে বোনোর হাত থেকে বল বেরিয়ে পর্যন্ত যায়নি। সরাসরি তাঁর হাতে জমা পড়ে।এমবাপের এমন পেনাল্টি নিয়ে ম্যাচের পর দেশঁ বলেছেন, ‘‘এমবাপে পেনাল্টি মারার আগে রিভিউয়ের জন্য ২ মিনিটের বেশি সময় নষ্ট হয়। এমবাপে তৈরিই ছিল। কাউকে দোষ দিতে চাই না। এমন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি মারা সহজ নয়। এটা কোনও অজুহাত নয়।’’ এমবাপে নিজে বলেছেন, ‘‘আরাম করার একটাই উপায়। তা হল ম্যাচ জেতা। আমরা হাল ছাড়ার পাত্র নই। সেমিফাইনালে উঠে অবশ্যই ভাল লাগছে। তবে এখনও অনেক পথ বাকি।’’ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তা নিয়ে ভেবে নিজেকে চাপেও ফেলতে চান না। দলের জয় তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।অন্য দিকে, ফ্রান্সের জয়ের অন্যতম নায়ক দেম্বেলে মেনে নিয়েছেন, মরক্কোর বিরুদ্ধে তাঁদের আরও ভাল খেলা উচিত ছিল। তিনি বলেছেন, ‘‘ম্যাচ জিতে ভাল লাগছে। ফ্রান্স ছাড়াও প্যারিস সঁ জরমঁর হয়েও এই পজ়িশনে খেলি। আমি চেষ্টা করছি। বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। আরও খুশি হতাম, যদি আরও ভাল খেলতে পারতাম আমরা। আমার কাছে সবার আগে দল। আমরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল। শেষপর্যন্ত যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’’