ভিটেছাড়া মারণরোগে আক্রান্ত মা। প্রশাসনের দরবারে বৃদ্ধা আসিয়া বিবি।

Jul 11, 2026 - 14:31
 6
ভিটেছাড়া মারণরোগে আক্রান্ত মা। প্রশাসনের দরবারে বৃদ্ধা আসিয়া বিবি।

সানওয়ার হোসেন, উস্তি:

যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, আজ সেই ছেলেই চরম অমানবিকতার নজির গড়ল। খোদ নিজের জন্মদাত্রী মাকে সম্পত্তি থেকে বেদখল করে, তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বড় ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার নাজরা গ্রামে। বর্তমানে ক্যান্সারের মতো মারণরোগে আক্রান্ত ৭৪ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা আসিয়া বিবি বেঁচে থাকার তাগিদে এবং একটু খাবারের আশায় প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজরা গ্রামের বাসিন্দা আসিয়া বিবির স্বামী আমেদ আলি মোকামী বেশ কিছু বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি স্ত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দেউলা স্টেশনের পাশে একটি ছোট দোকানঘর আসিয়া বিবির নামে লিখে দিয়ে যান। সেই দোকানঘরটিতে একটি সাইকেল গ্যারেজ করে যা আয় হতো, তা দিয়েই কোনো রকমে নিজের দিন গুজরান এবং ব্যয়বহুল ক্যান্সারের চিকিৎসার ওষুধ কিনতেন ওই বৃদ্ধা।

কিন্তু অভিযোগ, আসিয়া বিবির বড় ছেলে আসিফ মোকামি এবং পুত্রবধূ তাজমিনা বিবি মিলিত হয়ে বৃদ্ধাকে তাঁর স্বামীর সমস্ত সম্পত্তি থেকে বেদখল করেছে। এমনকি দেউলা স্টেশনের পাশের ওই দোকানঘরটিও জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই বৃদ্ধা ঠিকমতো দু-বেলা খেতেও পান না। পেটের তাগিদে এবং ওষুধের টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হয়েই গ্রামের লোকের দুয়ারে দুয়ারে কিংবা পথচলতি মানুষের কাছে হাত পাতছেন ৭৪ বছরের এই অশীতিপর বৃদ্ধা।

বড় ছেলের এই চরম নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন আসিয়া বিবি। উস্তি থানার পাশাপাশি শুক্রবার সকালে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসকের (SDO) কাছে বড় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দেন তিনি।

কাঁদো কাঁদো স্বরে বৃদ্ধা বলেন, "আমি একজন অপারেশন রোগী এবং বর্তমানে ক্যান্সার নামক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। আমার প্রতিদিন অনেক টাকার ওষুধ লাগে। এই পৃথিবীতে আমি আর হয়তো খুব অল্প কয়েকদিন বাঁচবো। তাই যে কদিন বাঁচবো, যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারি।"

বৃদ্ধা জানিয়েছেন, তাঁর এই কঠিন পরিস্থিতিতে বড় ছেলে মারমুখী হয়ে উঠলেও, তাঁর ছোট ছেলে নূর মোহাম্মদ মোকামি এবং মেয়ের জামাইরা নিজেদের সাধ্যমতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তাঁদেরও নিজেদের সংসার থাকায় সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিজের আইনত সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন একজন প্রবীণ নাগরিককে এভাবে পথে পথে ঘুরতে হবে, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখন দেখার, ডায়মন্ড হারবার মহকুমা প্রশাসন ও উস্তি থানা এই অসহায় মায়ের অধিকার ফিরিয়ে দিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।