বীরভূমের পাথর ব্যবসায় '১২ হাজার কোটি টাকার লুঠ'! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথের
বীরভূম: পাথর ব্যবসাকে ঘিরে ফের তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক তরজা। এ বার সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে বীরভূমের পাথর ব্যবসা থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লুঠ হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান সামনে এনে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তিনি।
বিজেপি বিধায়কের দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই পাথর ব্যবসায় রাজস্ব আদায়ের চিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৭তারিখ বীরভূমের পাথর ব্যবসা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ১৮ তারিখ সেই অঙ্ক বেড়ে হয় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। আর ২৩ তারিখ, অর্থাৎ মাত্র সাত দিনের মধ্যেই রাজস্ব আদায় পৌঁছে যায় ২ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকায়।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-এর দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে পাথর ব্যবসা থেকে। অথচ তৃণমূল জমানায় রাজ্যের কোষাগারে প্রতিদিন মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা জমা পড়ত। অর্থাৎ মাসিক রাজস্ব যেখানে হওয়া উচিত ছিল বহু বেশি, সেখানে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা জমা পড়ত বলে অভিযোগ তাঁর। বিজেপি বিধায়কের দাবি, বাকি প্রায় ৭০ কোটি টাকা প্রতি মাসে 'লুঠ' হয়েছে। সেই হিসাব ধরেই গত ১৫ বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বীরভূম জেলা প্রশাসনের কাছে গত ১৫ বছরের সমস্ত আর্থিক খতিয়ান চাওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্য নবান্নে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের কথায়, “এই বিপুল টাকা কার কার পকেটে গিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।"
যদিও বিজেপির এই বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।