ডুরান্ডের সেমিতে সবুজ-মেরুন
ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান। সোমবার যুবভারতীতে তারা টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে হারাল জামশেদপুর এফসি-কে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফলাফল ছিল ১-১। এর পর টাইব্রেকারে দুই দলই প্রথম আটটি শটে গোল করে। নবম শটে জামশেদপুরের মামার শট বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। অভিমিতেই গোল করে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালে তুলে দেন। যুবভারতীতে ২ মিনিটের মধ্যেই মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল আবদুল সামাদ। কিন্তু বিশালের ভুলে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। সহজ গোল মিস করেন ড্রাজিচ। মোহনবাগানের দু’টি পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়। একটি জামশেদপুর ডিফেন্ডারের হাতে লাগে। অন্যটিতে আলবার্তোকে বক্সের মধ্যেই ট্যাকেল করা হয়। এদিন অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেড ৫-২ গোলে হারিয়েছে শিলং লাজংকে। হ্যাটট্রিক করেন আলাদিন আজারেই। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও এবার শিলংয়ে ম্যাচ খেলতে যেতে হবে মোহনবাগানকে।সব নিয়েই অসন্তুষ্ট কোচ প্যানোস। ম্যাচের পর তিনি বলেন, “আমাদের প্লেয়াররা মনঃসংযোগ হারিয়েছিল। ফিনিশিংয়েও গন্ডগোল হচ্ছে। অন্তত পাঁচটা সুযোগ পেয়েছিলাম। তাছাড়া অনেক প্লেয়ার ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সত্যিই কীসব চলছে! আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। অথচ আমাদের সূচিই সবচেয়ে খারাপ। আমি তো কারও কাছে সাহায্য চাইছি না। আমি যেটা ন্যায্য, সেটাই বলছি। আমার বোধহয় একটু সাবধানে কথা বলা উচিত। কারণ, অন্তত তিনটে পেনাল্টির সুযোগ ছিল। অনেক সিদ্ধান্ত আমাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। অনেক আগেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে তো তিনবার অফসাইড দেওয়া হয়েছিল। এরকম ঐতিহাসিক দলের বিরুদ্ধে কেন এগুলো হচ্ছে? কিন্তু আমরা লড়ে যাব।” অন্যদিকে প্রশংসা করতে হয় বিদেশিহীন জামশেদপুরে প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরী, প্রভাত লাকরাদের লড়াই। ডুরান্ডেই শেষ। তারপর আর কোনও প্রতিযোগিতায় দেখা যাবে না আইএসএল জেতা ক্লাবকে। অস্তিত্ব সংকট নিয়েও তাঁদের লড়াই প্রশংসাযোগ্য। ক্লাব ‘উঠে’ যাওয়া নিয়ে অধিনায়ক প্রণয় হালদার বলেন, “ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কিছু ঠিক করিনি। আমি এখানে ৪-৫ বছর খেলেছি। খুব ভালো সময় কেটেছে। আবেগপ্রবণ লাগছে। তবে বাস্তবকে মেনেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে আমি গর্বিত যে, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি।”