মৃত্যুর প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান মুন্নি বিবি।
হেদায়তুল্লা পুরকাইত, ডায়মন্ড হারবার:
প্রায় চার বছর আগের এক রহস্যঘেরা মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। ২০২২ সালে ডায়মন্ড হারবারের বোলসিদ্ধি-কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেবব্রত ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার গ্রেফতার হলেন তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান মুন্নি বিবি। সোমবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত এবং একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পর মুন্নি বিবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিষেক ঘনিষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলামকে। পরপর দুই গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তের গ্রেফতারি ঘিরে ডায়মন্ড হারবার জুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালে দেবব্রত ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রথম থেকেই দেবব্রতবাবুর পরিবার এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে ছিলেন দেবব্রত ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এই চাপই শেষ পর্যন্ত তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
দেবব্রত ভট্টাচার্যের পরিবারের পক্ষ থেকে মুন্নি বিবি এবং মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুর প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পঞ্চায়েতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের জেরে দেবব্রতবাবুর উপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক নথি, কল রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান সংগ্রহ করে।
তদন্তকারীদের দাবি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে, যা এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই প্রথমে মইদুল ইসলাম এবং পরে মুন্নি বিবিকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই গ্রেফতারির পর ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক অন্দরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং তার প্রভাব নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। যদিও শাসক শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে দেবব্রত ভট্টাচার্যের পরিবার পুলিশের পদক্ষেপে আংশিক স্বস্তি প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, “অনেকদিন ধরেই আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তদন্ত এগোচ্ছে দেখে আশার আলো দেখছি।”
এখন দেখার, আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী উঠে আসে এবং তদন্তে আর কারও নাম সামনে আসে কি না। ডায়মন্ড হারবারের বহুচর্চিত এই মৃত্যুকাণ্ড যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, তা বলাই যায়।