দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কুলপি বাজারে মহাকুমা শাসকের সারপ্রাইজ ভিজিট, অভিযানকে সাধুবাদ সাধারণ মানুষের।
সানওয়ার হোসেন, কুলপি: বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা জারি হতেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বুধবার সকালে আচমকাই কুলপি বাজারে এক বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে অভিযানে নামলেন ডায়মন্ড হারবারের মহাকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্দিরবাজারের এসডিপিও প্রসেনজিৎ দাস, খাদ্যাধিকারিকরা, কুলপির ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এবং কুলপি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। কুলপি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে পুরো বাজার পরিক্রমা করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
এদিন সকাল থেকেই কুলপি বাজারের সবজি বাজার, মুদিখানা দোকান এবং মিষ্টির দোকান, মাছের দোকান গুলিতে অভিযান চালানো হয়। খুচরো বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, নির্দিষ্ট দামের থেকে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি বেশ কিছু বড় দোকানের গোডাউনে প্রবেশ করে সামগ্রীর মজুত ভাণ্ডার পরীক্ষা করা হয় এবং পাইকারি ক্রয়ের চালান খতিয়ে দেখা হয়। খাদ্যের গুণগত মান ঠিক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য কড়া সতর্কবার্তা দেয় প্রশাসন।
ডায়মন্ড হারবারের মহাকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্ত বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের ওপর থেকে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ কমাতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা বাজারের সামগ্রিক মূল্য পরিস্থিতি, মজুত তালিকা এবং খাদ্যের গুণগত মান খতিয়ে দেখছি। পাইকারি ও খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো অসঙ্গতি বা অনিয়ম নজরে এলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক মূল্যে গুণগত জিনিস পান, তার জন্য এই তদারকি ও অভিযান প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
একনাগাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় যেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছিল, সেখানে প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় ক্রেতারা। বাজার করতে আসা ক্রেতারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, যেভাবে সবজি ও মুদির উপকরণের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছিল, তাতে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছিল। প্রশাসনিক আধিকারিকরা সরাসরি বাজারে এসে দাম তদারকি করায় আমরা খুব খুশি। নিয়মিত এমন নজরদারি চালানো হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভয় পাবে এবং আমরা সঠিক দামে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারব।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে শুধুমাত্র ক্রেতারাই নন, সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় খুচরো ব্যবসায়ী ও বিরোধী দলগুলির সমর্থকরাও। খুচরো বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে জিনিস কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁদের চড়া দামে বিক্রি করতে হতো, এই অভিযানের ফলে গোডাউনে বেআইনি মজুতদারি বন্ধ হলে পাইকারি দাম কমবে। কুলপি বাজারের এই সারপ্রাইজ ভিজিটে পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।