মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশল গ্রামে পানীয় জলের দাবিতে বিক্ষোভ, ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি বাসিন্দাদের
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর: গ্রামে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পাইপ বসানো হলেও এখনও শুরু হয়নি জল সরবরাহ। বাড়ি বাড়ি বসানো হয়নি ট্যাপকল। গরম পড়তেই তীব্র জলের সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। পরিশ্রুত পানীয় জলের দাবিতে বালতি ও কলসি হাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশল গ্রামের মহিলা ও পুরুষেরা এই বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, ভোটের আগে জলের সমস্যা সমাধান না হলে ভোট বয়কট করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন আগে গ্রামে পাইপ বসানো হয়েছে এবং রাধিকাপুর জনস্বাস্থ্য কারিগরি প্রকল্প থেকে জল সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি ট্যাপকল বসানো হয়নি। ফলে পরিশ্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত গোটা গ্রাম।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জলের সমস্যার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনকে একাধিকবার স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিফুল আলম, আরতী মণ্ডল ও দীনেশ তিওয়ারিরা জানান, গত পনেরো বছরে তিনবার গ্রামে পাইপ বসানো হলেও এখনও পর্যন্ত জল সরবরাহ শুরু হয়নি। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ অগভীর নলকূপের জল পান করেন এবং সেই জল দিয়েই রান্নাবান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই আবার পাশের বিহারের কানহল গ্রাম থেকে ট্যাপের জল এনে ব্যবহার করেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, অগভীর নলকূপের আয়রনযুক্ত জল পান করে বহু মানুষ পেটের সমস্যায় ভুগছেন। ছয় মাস আগে সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে কুশল শিব মন্দির প্রাঙ্গণে একটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হলেও তাতে ফিল্টার লাগানো হয়নি। ফলে সেটি এখনও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, নেতারা ভোটের সময় জলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও ভোট মিটতেই আর তাঁদের দেখা মেলে না। তাই এবার গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভোটের আগে সমস্যার সমাধান না হলে ভোট বয়কট করবেন।
অন্যদিকে বাম নেতা আব্দুল বাসির জানান, গত ৬ জানুয়ারি জলের দাবিতে ব্লক প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।