১০ কোটির সম্পত্তির লোভ! জয়পুরে সুপারি দিয়ে মাকে খুন করালেন কন্যা

Jul 10, 2026 - 14:16
 10
১০ কোটির সম্পত্তির লোভ! জয়পুরে সুপারি দিয়ে মাকে খুন করালেন কন্যা

সম্পত্তি এবং চাকরির লোভে রাজস্থানের জয়পুরে মাকে খুনের অভিযোগ উঠল কন্যার বিরুদ্ধে। খুনের পর একে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।অভিযুক্ত কন্যার নাম আয়ুষি শর্মা। জয়পুরের এয়ারপোর্ট কলোনিতে থাকেন তাঁরা। আয়ুষির বাবা বিজয় শর্মা সরকারি চাকরি করতেন। বছরখানেক আগে তাঁর মৃত্যু হয়। বিজয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী নীরজ শর্মা সেই চাকরি পান। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবার চাকরিটা করতে চেয়েছিলেন আয়ুষি। ভেবেছিলেন, তাঁকেই এই চাকরির প্রস্তাব দেবেন মা নীরজ। কিন্তু সেটা না হওয়ায় আয়ুষির মনে একটা আক্রোশ জন্ম নেয়।আয়ুষির বিশেষ ভাবে সক্ষম এক ভাইও রয়েছে। চাকরি এবং দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন নীরজ। বাবার চাকরি না পেয়ে তাঁর ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানোর পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কী ভাবে এই সম্পত্তি নিজের নামে করবেন! বিষয়টি কাকা এবং কাকার ছেলেকে জানান আয়ুষি। নিজের বাড়ি ছেড়ে কাকার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, খুড়তুতো ভাই বলরাম এবং কাকাকেও ১০ কোটির সম্পত্তির লোভ দেখান আয়ুষি। কাকা এবং খুড়তুতো ভাইকে তিনি বলেন, মাকে যদি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, তা হলে ওই সম্পত্তির অর্ধেক বলরামের নামে করে দেবেন।পুলিশ সূত্রে খবর, তার পরই শুরু হয় নীরজকে সরানোর পরিকল্পনা। আয়ুষির আচার-আচরণ দেখে নীরজের সন্দেহ হয়। তিনি তাঁর দাদাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে নীরজ প্রতি দিন কাজে যেতেন। বিকেলে কাজ থেকে ফিরতেন। আয়ুষিরা নীরজের গতিবিধির উপর এক মাস ধরে নজরদারি চালান। তদন্তকারী সূত্রের খবর, আয়ুষিরা দেখেছিলেন যে, কাজ থেকে নীরজ হেঁটেই বাড়ি ফেরেন। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।অভিযোগ, এক ভাড়াটে খুনিকে সাত লক্ষ টাকা সুপারি দেন আয়ুষি। পরিকল্পনা হয়, গাড়িচাপা দিয়ে খুন করা হবে। বিষয়টিকে এমন ভাবে করা হবে যেন মনে হয় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী হরিয়ানা থেকে খুনি ভাড়া করে আনেন আয়ুষি। ৪ জুলাই কাজ থেকে ফিরছিলেন নীরজ। সেই সময় ওই গাড়িটি তাঁকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ১০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন নীরজ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। সেখান থেকেই মামাকে ফোন করেন আয়ুষি। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাঁর মামার সন্দেহ হয়। পুলিশকে বিষয়টি জানান। ওই জায়গার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। তখন দেখা যায়, নীরজ রাস্তার ধার দিয়েই হাঁটছিলেন। দুর্ঘটনার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। তার পরই দেখা যায় একটি গাড়ি নীরজের পথ বরাবর পিছন থেকে এসে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাচ্ছে। সিসি ক্যামেরায় ঘটনার সময় আয়ুষিকেও দেখা গিয়েছিল। সেই সূত্রেই আয়ুষিকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় খুনের কথা স্বীকার করেন তিনি। তার পরই গ্রেফতার করা হয় আয়ুষিকে।