মালদায় চাকরির নাম করে কোটি টাকার প্রতারণা! সাড়ে চার হাজার বেকারের অভিযোগ, জেলাশাসকের দ্বারস্থ ক্ষতিগ্রস্তরা

Feb 17, 2026 - 09:16
 0
মালদায় চাকরির নাম করে কোটি টাকার প্রতারণা! সাড়ে চার হাজার বেকারের অভিযোগ, জেলাশাসকের দ্বারস্থ ক্ষতিগ্রস্তরা

মালদায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগ উঠল এক বেসরকারি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রায় সাড়ে চার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হলেও চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলায়।

অভিযোগের তীর Sujapur (সুজাপুর)-এ অবস্থিত একটি বেসরকারি নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘মালদা মিশন হাসপাতাল’ বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। এটি Kaliachak Police Station (কালিয়াচক থানা)-এর অন্তর্গত এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত।

অভিযোগ, হাসপাতালটি তৈরি হওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু হয়। সেখানে জানানো হয়, জেলায় ৪০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল খুলতে চলেছে এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। সেবিকা, গ্রুপ ডি কর্মী, প্রযুক্তিবিদ, নিরাপত্তারক্ষী সহ একাধিক পদে নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল।

এই বিজ্ঞাপন দেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিনরাজ্য থেকেও বহু বেকার যুবক-যুবতী আবেদন করেন। আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। অভিযোগ, সাক্ষাৎকারের সময় প্রার্থীদের কাছ থেকে পোশাক ও প্রশিক্ষণের নামে ৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

প্রতারিতদের দাবি, প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রার্থীর কাছ থেকে এইভাবে টাকা তোলা হয়েছে, যা হিসেব করলে কয়েক কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সেবিকা পদের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বেতন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে কেউ ১২ বা ১৩ হাজার টাকা বললে কর্তৃপক্ষ ১৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে অভিযোগ।

এছাড়াও, নথি যাচাই ও নির্দিষ্ট পোশাকের নামে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, কারও কাছ থেকে ১৫ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। জানানো হয়, দুই মাসের মধ্যেই কাজে যোগ দেওয়া যাবে।

কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে এক বছর কেটে গেলেও কাউকে কাজে যোগ দিতে বলা হয়নি। এরপরেই সন্দেহ দানা বাঁধে চাকরিপ্রার্থীদের মনে। তাঁরা দলবদ্ধভাবে নার্সিং হোমে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবি জানালে কোনও সাড়া মেলেনি। উল্টে হুমকির অভিযোগও উঠেছে।

প্রতারিতরা অভিযোগ জানাতে কালিয়াচক থানায় গেলে তাঁদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত যুবক-যুবতীরা মালদার জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।