হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনে মূল পাণ্ডা গ্রেফতার, দিল্লির জামা মসজিদ এলাকা থেকে পাকড়াও দুই অভিযুক্ত
হাওড়া: পিলখানায় প্রকাশ্য দিবালোকে তরুণ প্রোমোটার খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পাণ্ডা হারুন খান এবং তার সহযোগী রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতকে গ্রেফতার করেছে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর ও গোলাবাড়ি থানার একটি বিশেষ দল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিট নাগাদ দিল্লির জামা মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়।
জানা গিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর প্রায় ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বছর ২৭-এর তরুণ প্রোমোটার সফিকুল খানকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছয় রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারিদিক নিস্তব্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে দুই আততায়ী হেঁটে এলাকায় এসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। গুলিতে মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত পান সফিকুল খান এবং ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি র্যাফ মোতায়েন করা হয়। খুনের নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা নাকি তোলাবাজির দাবি ছিল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছিল। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় এই খুন বলে অভিযোগ।
তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে জানতে পারে অভিযুক্তরা রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর ও গোলাবাড়ি থানার একাধিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই খুনের তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়েছে। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরে তাদের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই খুনের নেপথ্যে অন্য কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।