সোনার ধানে দুর্যোগের ছোবল! কালবৈশাখীর তান্ডবে তছনছ সুন্দরবনের কৃষি; মাথায় হাত নামখানা-সাগরের কয়েক হাজার চাষির
অমিত মণ্ডল, নামখানা: প্রকৃতির এক ঝটকায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল প্রান্তিক চাষিদের দীর্ঘ কয়েক মাসের হাড়ভাঙা পরিশ্রম। বুধবার রাতভর দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলা কালবৈশাখীর দাপটে এবং মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা, সাগর, কাকদ্বীপ এবং পাথরপ্রতিমার কয়েক হাজার কৃষক। বিশেষ করে বোরো ধান এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বোরো ধান পাকার মরসুম। আর বড়জোর ১০ থেকে ১৫ দিন পর চাষিরা ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দুর্যোগের ভ্রুকুটি সব হিসেব ওলটপালট করে দিল। প্রবল হাওয়ায় খেতের ধান গাছ যেমন নুইয়ে পড়েছে, তেমনই জমা জলে পচন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নামখানা ও সাগরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেল এক বিষণ্ণ ছবি। খেতের পর খেত ধান জলের নিচে। ধানের জমিতে জমা জলে নেমে জল বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চাষিরা। নাছোড় বৃষ্টিতে সেই চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, "বোরো ধানে এবার ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু ধান কাটার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
শুধু ধান নয়, পটল, ঝিঙে, উচ্ছে লঙ্কা চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে লঙ্কা গাছে পচন ধরার ভয় বাড়ছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনে স্থানীয় বাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনী মরসুমে রাজনীতির উত্তাপের মাঝেই এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কৃষকদের পেটে লাথি মেরেছে।