সংসার ত্যাগী মহিলার শুরু করা কালী পুজো হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীদের, প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে স্থায়ী মন্দির

Oct 14, 2025 - 19:30
Oct 14, 2025 - 19:31
 0
সংসার ত্যাগী মহিলার শুরু করা কালী পুজো হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীদের, প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে স্থায়ী মন্দির

বিশ্ব সমাচার, কাকদ্বীপ : এক সংসার ত্যাগী মহিলার কালী পুজোকে ঘিরে কাকদ্বীপে গড়ে উঠেছে স্থায়ী মন্দির। এখন সেই মন্দিরেই জাঁকজমক করে পুজো করেন স্বামী বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুবাবুর চক এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি পুজোর দিন কয়েক হাজার ভক্ত এখানে ডালা দেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার শ্মশানের পাশে স্থানীয় এক বাসিন্দা শিবানী মাইতি সংসার ধর্ম ত্যাগ করে কালী পুজো শুরু করেন। তিনি শ্মশানের পাশে একটি খালের পাড়ে পলিথিন টাঙিয়ে কালী প্রতিমাটি রেখেছিলেন। দুই বছর ওই ছোট্ট ঘরে তিনি পুজো করেন। এরপরই গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে শ্মশানের পাশে একটি ছোট্ট ঘর বানিয়ে দেন। সেই ঘরে কালী প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু শিবানী দেবী ওই ঘরটিতে গিয়ে পুজো করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিমা ছেড়ে দিয়ে চলে যান। একসময় তিনি প্রায় নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। তখনই গ্রামবাসীরা সেই ঘরে রাখা কালী প্রতিমার পুজো করার উদ্যোগ নেন। সেই থেকে আশুবাবুর চকে শুরু হয় শ্মশান কালী পুজো।

                প্রথমে ট্রিপল টাঙিয়ে শ্মশানের পাশে একটি ছোট্ট মন্দির বানানো হয়েছিল। সেই মন্দিরে কালী দেবীর প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার প্রায় দশ বছর পর গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় ৯ বাই ১১ ফুটের এক কামরার একটি ঘর বানানো হয়। সেখানেই এখন ৪৭ বাই ২৭ ফুটের একটি স্থায়ী কংক্রিটের মন্দির গড়ে উঠেছে। আর এই মন্দিরে পাথরের তৈরি কালী প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

                 এ বিষয়ে কালী মন্দির পরিচালন কমিটির প্রধান সদস্য খোকন মিদ্যা বলেন, "এই গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করেন এখানকার দেবী খুবই জাগ্রত। মন্দিরটি তৈরি করার সময় বেশ কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। রাজমিস্ত্রি গভীর রাতে শ্মশানের উপর দিয়ে প্রায় সময় একটি ছোট্ট মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখেছেন। এছাড়াও গভীর রাতে বহুবার গ্রামবাসীরা শ্মশানের ভিতরে নুপুরের শব্দ শুনেছেন। এই এলাকার বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন এই মন্দিরে মানত করলে, তা পূরণ হয়। বর্তমান বহু দূর থেকে ভক্তরা এসে এখানে মানত করেন ও পুজো দেন। এখন মন্দির পরিষ্কারের কাজ চলছে। পুজোর আগের দিন মন্দির খুলে দেওয়া হবে

।"