লখনৌ অগ্নিকাণ্ডে মৃত সৌমাল্যর বাড়িতে সাগরের বিধায়ক! কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিচার চাইল পরিবার
অমিত মণ্ডল, নামখানা:
লখনৌয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অকালে প্রাণ হারানো নামখানার ২৫ বছরের তরতাজা যুবক সৌমাল্য বেরার বাড়িতে এবার পৌঁছালেন সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। শুক্রবার নামখানার দ্বারিকনগর এলাকায় সদ্য সন্তানহারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে গভীর সমবেদনা জানান তিনি। বিধায়ককে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সৌমাল্যর বাবা-মা। শোকের মাঝেই ছেলের মৃত্যুরহস্য এবং কোম্পানির চরম গাফিলতি নিয়ে বিধায়কের কাছে একরাশ ক্ষোভ উগরে সৌমাল্যর বাবা।
গত সোমবার উত্তরপ্রদেশের আলিয়াগঞ্জ এলাকায় ঊষা মেহতা মার্গের একটি তিন তলা বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই ভবনে চলা একটি অ্যানিমেশন ও কার্টুন ডিজাইনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গত দু'বছর ধরে কর্মরত ছিলেন সৌমাল্য। সেই বিধ্বংসী আগুনে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছিলেন নামখানার এই যুবকও। বুধবার তাঁর কফিনবন্দি দেহ দ্বারিকনগরের বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম।
শুক্রবার সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল সৌমাল্যর বাড়িতে পৌঁছালে, ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে সৌমাল্যর বাবা তাঁর কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ওই অ্যানিমেশন কোম্পানির তরফ থেকে পরিবারের সাথে কোনোপ্রকার যোগাযোগ করা হয়নি বা কোনো দায় নেওয়া হয়নি।
ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও লখনৌ প্রশাসন বা কোম্পানির তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত সৌমাল্যর ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যু শংসাপত্র পরিবারের হাতে এসে পৌঁছায়নি।
ঠিক কী কারণে আগুন লাগল এবং সৌমাল্যর মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা জানতে ঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার।
সদ্য সন্তানহারা বাবা-মায়ের অভিযোগ শোনার পর সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল পরিবারটিকে সমস্ত রকম আইনি ও প্রশাসনিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। লখনৌ থেকে যাতে দ্রুত ডেথ সার্টিফিকেট আনা যায় এবং কোম্পানির গাফিলতির বিরুদ্ধে যাতে পদক্ষেপ করা যায়, সে বিষয়ে তিনি পরিবারের পাশে থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন।