মহামারী রুখতে শুরু হয়েছিল পুজো; শিবনগরের ‘কাঁকড়া বুড়ি’র ঘটত্তোলনের সময় আজও নদীতে ওঠে কাঁকড়া, আকাশে ওড়ে শঙ্খচিল*
অমিত মণ্ডল, নামখানা:সময়টা ১৩৬৪ বঙ্গাব্দ। বসন্ত রোগের মারণ কামড়ে তখন উজাড় হয়ে যাচ্ছে নামখানার একের পর এক জনপদ। মৃত্যুমিছিল রুখতে মেদিনীপুরের এক তান্ত্রিক ব্রাহ্মণের স্বপ্নাদেশ মেনে শুরু হয়েছিল দেবী শীতলার আরাধনা। সেই থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিবনগর আবাদ এলাকায় নামখানার ঐতিহ্যবাহী ‘কাঁকড়া বুড়ি’র পুজোর পথচলা শুরু। বুধবার নদীর চরে অলৌকিক সংকেতের মধ্য দিয়ে সূচিত হলো এই প্রাচীন উৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা মেলা কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ দিন্ডা জানান, ভয়াবহ মহামারীর সময় কার্তিকচন্দ্র সামন্তর বাড়িতে পুজো করতে আসতেন এক তান্ত্রিক ব্রাহ্মণ। তাঁর স্বপ্নাদেশেই তিন রাস্তার মোড়ে মূর্তি স্থাপন করে শুরু হয় পুজো। পুজোর সূচনালগ্নেই ঘটে অলৌকিক ঘটনা— ঘটে দেখা যায় দেবীর পদচিহ্ন। তান্ত্রিকের সেই পরম্পরা আজ বয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁর পুত্র। আজও কথিত আছে, দেবী মর্ত্যে পদার্পণ করলে আকাশে শঙ্খচিল ওড়ে এবং দোয়ানিয়া নদীতে কাঁকড়ার মেলা বসে।
বুধবার পুজোর শুরুতে সেই চিরচেনা দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন অগুনতি ভক্ত। দোয়ানিয়া নদীর চরে শঙ্খচিল উড়তেই শুরু হয় ঘট উত্তোলন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, নদী থেকে কাঁকড়া ওঠার সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত এই পুজো পূর্ণতা পায় না। আজও আধুনিক মন্দিরের পাশাপাশি সংরক্ষিত রয়েছে সেই পুরনো আদি মন্দির। নিয়ম মেনে পুরনো মন্দিরে পুজোর পরেই নতুন মন্দিরে দেবীর আরাধনা শুরু হয়।
এই পুজোকে কেন্দ্র করে শিবনগর আবাদে আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশাল মেলা। আগামী সাত দিন ধরে এই মেলা চলবে। সুন্দরিকা ও দোয়ানিয়া নদীর মোহনায় ঘট উত্তোলন দেখতে এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক যুগেও সুন্দরবনের এই লোকজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্য আজও অটুট।