ভোেট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে উত্তাল শান্তিপুর, বিজেপি সমর্থক পরিবারে হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

May 24, 2026 - 09:54
 0
ভোেট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে উত্তাল শান্তিপুর, বিজেপি সমর্থক পরিবারে হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

নদিয়ার শান্তিপুরে ফের প্রকাশ্যে এল ভোেট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। বিজেপির জয়ে আনন্দ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর রাতের অন্ধকারে হামলা, বাড়ি ভাঙচুর ও মহিলা-শিশুদের মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শান্তিপুর থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেরপাড়া মনসাতলা এলাকায়।

অভিযোগ, ওই পরিবারের এক শিশু বিজেপির জয়ের আনন্দে বাড়ির সামনে বিজেপির পতাকা লাগায় এবং আবির খেলায় মেতে ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকার কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রথমে শিশুটিকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর সেই ক্ষোভ পুষে রেখে গভীর রাতে পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং বাড়ির মহিলা সদস্যদের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। আতঙ্কিত পরিবার পরে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যদিও প্রথমে অভিযোগ নিতে অনীহা দেখানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। পরে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগকারী বেদানা পণ্ডিত জানান, "৭ তারিখে বিজেপি জয়ের পর আমার ছোট ছেলে আনন্দে বিজেপির পতাকা লাগিয়েছিল ও আবির খেলেছিল। সেই কারণেই কিছু প্রতিবেশী এসে ওকে মারধর করে। পরে রাতের অন্ধকারে কয়েকজন বাড়িতে হামলা চালায়, বাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমাকে ও আমার শাশুড়িকে মারধর করে। শুধু আমরা বিজেপি করি বলেই আমাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে।"

আক্রান্ত শুভ্রা পণ্ডিতের বক্তব্য, "আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি সমর্থক ছিলাম, তবে সেটা প্রকাশ করতাম না। বিজেপি জয়লাভের পর আনন্দ প্রকাশ করতেই আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। যারা হামলা করেছে তারা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত।"

ঘটনায় সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কাউন্সিলর মহানন্দ বিশ্বাসও। তিনি বলেন, "বিজেপি করার অপরাধে মহিলা ও শিশুদের মারধর করা হয়েছে। এখনো কী সাহসে এরা এভাবে হামলা চালাচ্ছে সেটাই ভাবার বিষয়। খবর পেয়ে আমি থানায় এসেছি। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।"

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।