ব্যাংকের লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উকিল সেজে ব্যারাকপুর আদালতে প্রতারণা, গ্রেফতার চার ভুয়ো উকিল
ব্যাংকের লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উকিল সেজে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে। অভিযোগ, ফেসবুকে ‘রিতা দাস’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে প্রাইভেট লোন পাইয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে বহু সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়। বনগাঁ, কাঁচরাপাড়া, বর্ধমান ও বারাসাতের মতো বিভিন্ন এলাকা থেকে লোন নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট দিনে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির হতে বলা হয়।
এদিন সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ আদালত চত্বরে অপেক্ষা করেও কোনও প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় লোনপ্রার্থীদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। উকিলের কালো কোট-প্যান্ট ও গাউন পরে থাকা চারজনের আচরণ ও কথাবার্তায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন উপস্থিত কয়েকজন। জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অভিযুক্তরা স্বীকার করে নেয় যে তারা আদতে কোনও আইনজীবী নয়। এরপর খবর দেওয়া হয় স্থানীয় আইনজীবীদের। তাঁরা এসে নিশ্চিত করেন যে অভিযুক্তরা আদালতের নথিভুক্ত আইনজীবী নন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ব্যারাকপুর থানা-র পুলিশ। প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবক ও দুই মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভুয়ো লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আগাম ফি ও নানাবিধ চার্জের অজুহাতে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। পুলিশ পুরো চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, প্রতারণার মোট অঙ্ক কত এবং অনলাইনে কীভাবে বিজ্ঞাপন ছড়ানো হয়েছিল—সব দিক খতিয়ে দেখছে।
পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া লোন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। অচেনা প্রোফাইল বা ব্যক্তির মাধ্যমে লোনের প্রতিশ্রুতি পেলে যাচাই না করে টাকা না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে