দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে বৈধ টিকিট যাত্রীদের সঙ্গে রেলের প্রতারণার বিরুদ্ধে এবার প্রতারিতরা মামলা করতে চলেছেন সুপ্রিম কোর্টে

Feb 13, 2026 - 19:01
 0
দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে বৈধ টিকিট যাত্রীদের সঙ্গে রেলের প্রতারণার বিরুদ্ধে এবার প্রতারিতরা মামলা করতে চলেছেন সুপ্রিম কোর্টে

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, (ওড়িষ্যা থেকে ফিরে) ঃ দূর পাল্লায় এক্সপ্রেস মেল ট্রেনের আসন সংরক্ষণের জন্য অন লাইনে নির্দিষ্ট ভাড়া প্রদানকারী বৈধ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতিদিন প্রতারণা করছে রেল। গুরুতর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার বিচার চেয়ে সরাসরি রেলের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন যাত্রীরা। এই যাত্রীদের ভিতর ব্যবসায়ী, আইনজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার কয়েকশো মানুষ আছেন। কীভাবে বৈধ যাত্রীরা টিকিট কেটে যাওয়া ও আসার সময় রেলের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন তার যাবতীয় নথি জোগাড় করেছেন। পাশাপাশি এর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। যাতে আদালতে কেস করার পর যখন শুনানি হবে, তখন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তা বিচারকের হাতে তুলে দেওয়া যায়। সারা ভারত মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সুজয় দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া কখনও শালিমার থেকে দেশের নানা প্রান্তে কাজের প্রয়োজনে যেতে হয়। এই যাত্রাকালে একজন বৈধ যাত্রী হিসেবে যে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়। তা তুলে ধরার জন্যই এবার রেলের বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থার দ্বারস্থ হতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই প্রতারিত কয়েক হাজার যাত্রীর স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আমাদের হয়ে এই মামলা করতে সম্মত হয়েছেন এক আইনজীবী। তিনি জানিয়েছেন এই মামলা লড়াইয়ের জন্য তিনি কোনও টাকা নেবেন না। কারণ তিনি ও দূরপাল্লার ট্রেনে যাওয়ার সময় এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁর আত্মীয়দের এক অভিজ্ঞতা।

সুজয় দাস বলেন, দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে আসন সংরক্ষণ করে নিশ্চিন্ত ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা আগাম অন লাইনে টিকিট কেটে নেন। কেউ স্লিপারে কেউ এসি কোচে। স্লিপারে টু এবং থ্রি টায়ার আছে। বৈধ টিকিট যাত্রীদের ট্রেনের ভিতর যাত্রার সময় যাতে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে যেতে পারেন এজন্য রেলের পক্ষ থেকে কড়া নিয়ম চালু আছে। এ ব্যাপারে টিটি এবং রেল সুরক্ষা বাহিনীকে নজরদারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত যে কোনও কামরায় বৈধ টিকিটের যাত্রীরা ছাড়া অন্য কোনও যাত্রী উঠতে পারে না। রেলের নিয়ম অনুসারে বৈধ টিকিট যাত্রীদের ওঠার পর টিকিট পরীক্ষকের কাছে আধার কার্ড নাহলে ভোটার কার্ড পরিচয় পত্র হিসেবে দেখাতে হয়। এছাড়াও অন লাইনের টিকিট ও প্রতিটি যাত্রীদের নাম বলতে হয়। টিটি তা দেখে মিলিয়ে নেন। ট্রেন ছাড়ার পর এর বাইরে কোন ও অবৈধ যাত্রী ওই সংরক্ষিত কামরায় উঠে থাকেন, তাহলে শাস্তি হিসেবে তার জরিমানা করা হয়। জরিমানা দিতে অপরাগ হলে ওই কামরা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। নাহলে পুলিসের হাতে তুলে দিলে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর বাইরে সাধারণ টিকিট কেটে সংরক্ষিত কোচে উঠলে তাকে মোটা টাকার জরিমানা ধার্য করা হয়। এবং সংরক্ষিত কোচ থেকে সরিয়ে অসংরক্ষিত কামরায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এটাই রেলের নিয়ম। বাস্তবে এখন দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে রেলের পক্ষ থেকে টিকিট পরীক্ষকরা এবং রেল সুরক্ষা বাহিনী কিছুই দেখছে না। বরং নিজেদের পকেট ভরা নিয়ে ব্যস্ত থাকে সব সময়। সংরক্ষিত স্লিপার কোচের ভিতর এখন প্রতিদিন দূরপাল্লার ট্রেনে বৈধ যাত্রীদের স্বচ্ছন্দ যাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে অসংরক্ষিত যাত্রীদের জন্য। হাওড়া কিংবা শালিমার থেকে যতগুলি ট্রেন ছাড়ে তাতে মাঝখান থেকে প্রচুর অবৈধ যাত্রী উঠে পড়ে। সংরক্ষিত ওই সব কোচের নজরদারিতে রেল পুলিসের কোনও ভূমিকা নেই। ফলে অবাধে ওই সব যাত্রী উঠে ঢুকে পড়ছে কামরার ভিতর। এরপর কোনও আসনের মাটিতে কিংবা নীচে আসনের ধারে বসে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর গেটের ধারে শৌচাগার ও বেসিনের মুখে বাক্স প্যাটরা নিয়ে বসে যাচ্ছে। রাত যত বাড়ে ট্রেনের ভিতর যাতায়াতের সরু প্যাসেজে এবং বসার আসনের ভিতর পা রাখার একফালি জায়গাটুকু দখল করে শুয়ে পড়ে। ফলে রাতের বেলায় স্বচ্ছন্দ যাতায়াত থেকে শৌচাগার এ যাতায়াতের জন্য খুব অসুবিধা হয়। সংরক্ষিত আসনের বাইরে প্রচুর মানুষ উঠে পড়ায় শৌচাগার এ জল শেষ হয়ে যায়। দুর্গন্ধ বের হয়। সাফাই হয় না। টিটি এসে এই সব দেখেও নীরব থাকেন। তিনি বহিরাগতদের কাছ থেকে ফাইন আদায় করে চলে যান। তাদের জেনারেল কামরায় সরানোর কোনও উদ্যোগ নেন না। বরং বাড়তি পয়সার বিনিময়ে কামরার ভিতর থাকার জন্য উৎসাহিত করেন। দিনের পর দিন বৈধ যাত্রীদের সঙ্গে এইভাবে রেল প্রতারণা করে যাচ্ছে।