সুন্দরবনে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যম কর্মশালা, নদী ও জীবন বাঁচানোর তাগিদ।
সানওয়ার হোসেন, কাকদ্বীপ: জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অস্তিত্ব সংকটে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবন। এই সংকট মোকাবিলায় এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করতে কাকদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সভাগৃহে একটি বিশেষ গণমাধ্যম বিষয়ক আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিসেফের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, বিশিষ্ট পরিবেশ সাংবাদিক ডক্টর জয়ন্ত বসু, ইউনিসেফের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুচরিতা বর্ধন, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর, জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মন্ডলসহ একঝাঁক প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞ যোগ দেন।
সভার আলোচনায় উঠে আসে ভৌমজলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পানীয় জলের ক্রমবর্ধমান দূরবস্থার চিত্র। বিশেষজ্ঞরা জানান, পরিবেশের বিপর্যয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ দেশান্তরী হতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির ব্যাপ্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জলবায়ু-সহনশীল কাজের সুযোগ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ বিমা ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সম্প্রসারণ ও টেকসই নদীবাঁধ গড়ার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ার দরুন সুন্দরবনের নদীগুলিতে যন্ত্রচালিত যান ও জাহাজের সংখ্যা বাড়ায় জলদূষণ তীব্র আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেন জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মন্ডল। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, জলভাগকে দূষণমুক্ত করা না গেলে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। পরিবেশ সচেতনতায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী জানান, ভাঙন সামলাতে নদীর চরে বিশেষ নকশায় সারিবদ্ধভাবে তাল গাছ রোপণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত বসু বলেন, আমফানের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতের পর সুন্দরবনের দ্বীপগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেশের প্রায় ৩৯টি দ্বীপের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে সুন্দরবন অঞ্চলকেই সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়। পলি ও কাদামাটির স্বাভাবিক সঞ্চয়ন ব্যাহত হওয়ায় ভূমিক্ষয় বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জঙ্গল ও মানুষের বসতির ওপর। খাদ্য ও বাসস্থানের ভারসাম্যে টান পড়ায় লোকালয়ে বাঘের আনাগোনা ও সংঘাতও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুন্দরবনের বাসিন্দাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও বিমা চালুর সুনির্দিষ্ট সুপারিশের মাধ্যমে আলোচনার সমাপ্তি ঘটে।