অপারেশন থিয়েটার-জেনারেটর সবই আছে, নেই শুধু ডাক্তার! নামখানার মহারাজগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চরম দুর্ভোগ

May 26, 2026 - 15:17
 0
অপারেশন থিয়েটার-জেনারেটর সবই আছে, নেই শুধু ডাক্তার! নামখানার মহারাজগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চরম দুর্ভোগ

অমিত মণ্ডল, নামখানা:

বাইরে থেকে দেখলে ঝাঁ-চকচকে হাসপাতাল। ভেতরে অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাক-আপের জন্য রয়েছে বড় জেনারেটরের ব্যবস্থাও। কিন্তু আলিশান এই পরিকাঠামোর ভেতরে চিকিৎসার আসল কঙ্কালসার চেহারাটা ঢাকা পড়েছে স্রেফ চিকিৎসকের অভাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহারাজগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন ডাক্তারের অভাবে কার্যত ধুঁকছে। সমস্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কোনো রোগীকে এখানে ভর্তি করা হয় না, কারণ হাসপাতাল চত্বরে নেই কোনো স্থায়ী ডাক্তার!স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি সবসময় এমন ছিল না। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগেও এই মহারাজগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালু ছিল। নিয়মিত রোগী ভর্তি হতো, এমনকি ছোটখাটো অপারেশনও এখানেই করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ লাটে উঠেছে। বর্তমানে হাসপাতালের ইনডোর পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন অন্য হাসপাতাল থেকে একজন ডাক্তার আসেন স্রেফ আউটডোরটুকু সামলাতে। মাত্র চার ঘণ্টা পরিষেবা দিয়ে তিনি ফিরে যান। বাকি দিনগুলোতে হাসপাতালের নার্সদের কাছ থেকেই স্রেফ নামমাত্র ওষুধ নিয়ে ফিরতে হয় রোগীদের।হঠাৎ কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনো প্রসূতি মায়ের প্রসববেদনা উঠলে বিপাকে পড়েন হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার বাসিন্দা। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ছুটতে হয় দ্বারিকনগর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অথবা কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।ডাক্তার দেখাতে আসা মহারাজগঞ্জের বাসিন্দা নমিতা মাইতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এখানে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ডাক্তারবাবু আসেন। দুই-তিন ঘণ্টা থেকে চলে যান। বাকি দিনগুলো নার্সদের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে কাজ চালাতে হয়। বড় কোনো রোগ বা ইমার্জেন্সি হলে ১৫ কিলোমিটার দূরে দ্বারিকনগর বা কাকদ্বীপে দৌড়াতে হয়। গরিব মানুষ যাব কোথায়?”

একই সুর শোনা গেল স্থানীয় বাসিন্দা রামপ্রসাদ বেরার গলায়। তিনি বলেন,“আগে এখানে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি বিভাগের পরিষেবা দেওয়া হতো, অপারেশন হতো। সব মেশিনপত্র ধুলো জমছে, অথচ ডাক্তারের অভাবে রাতবিরেতে আমাদের মরতে হচ্ছে।”

রাজ্যে সদ্যই সরকার পরিবর্তন ঘটেছে। সাগরে নতুন বিধায়ক এবং মৎস্য ও সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন সুমন্ত মণ্ডল। তাই এবার আর কোনো জোড়াতাপ্পির আশ্বাস নয়, মহারাজগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ করে ইনডোর ও প্রসূতি বিভাগ পুনরায় চালুর জন্য জোর দাবি তুলেছেন হরিপুর ও মহারাজগঞ্জের মানুষজন। যদিও এ বিষয়ে সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল বলেন, খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।তিনি জানান, নামখানার দ্বারিক নগর ব্লক হাসপাতালে কয়েক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে ব্লকের প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে। মহারাজগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই দীর্ঘদিনের সমস্যাটি যাতে স্থায়ী সমাধান করা যায় এবং চিকিৎসকের অভাব দূর করে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায়, তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"