'প্রশ্ন ফাঁস মহাপাপ, আটকানোর দায়িত্ব গোটা দেশের’, নিট-কাণ্ডে প্রথমবার মুখ খুললেন মোদী
নিট-কাণ্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বললেন, প্রশ্নফাঁস মহাপাপ। তা রোখা গোটা দেশের দায়িত্ব। সংসদের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “ভুল পথে চলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু সঠিক পথে ফিরে আসা অনেক বেশি কঠিন। তাই তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। সেটাই আমাদের কর্তব্য।” পরে রিজিজু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে একযোগে এমন একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও সুযোগ না থাকে।’’ নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস-সহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদে সোমবার সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী। প্রতিবাদীদের দাবি ছিল, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে ‘ককরোচ’ দলের প্রতিবাদমঞ্চে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। এখনও পর্যন্ত অনশন ভাঙেননি তিনি। সোমবার ককরোচ দলের অভিযান আটকাতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছিল দিল্লিকে। দিকে দিকে ব্যারিকেড, জারি করা হয় ১৬৩ ধারাও (সাবেক ১৪৪ ধারা)। অর্থাৎ, চার জনের বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। মিছিল আটকাতে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল পুলিশ। তবে পুলিশের এত ‘বাধা’ কাটিয়ে সংসদ ভবনের বেশ কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা। যদিও শেষপর্যন্ত সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছোতে পারেননি তাঁরা। তার আগেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। অভিযোগ, জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। ধরপাকড় করে পুলিশ। যদিও শেষপর্যন্ত ‘ককরোচ’ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয় সরকার।সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন। বৃষ্টির মধ্যে বর্ষাতি পরেই মিছিলে শামিল হন অনেকে। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং ভারতের সংবিধান। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাঁদের অধিকাংশই ছাত্র-যুব) সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন। বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের বাসে চাপিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। এই বিক্ষোভের পর নিট ইউজির প্রশ্নফাঁস নিয়ে মঙ্গলবার প্রথম বার মুখ খুললেন মোদী।