প্রথম ভারতীয় হিসাবে জাপান ওপেন জয় সিন্ধুর
ইতিহাস গড়লেন পিভি সিন্ধু। ভারতের প্রথম ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসাবে জাপান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হলেন। ফাইনালে সিন্ধু ২১-১৭, ২১-১৭ ব্যবধানে হারালেন জাপানের একানে ইয়ামাগুচিকে। রবিবার জাপান ওপেনের ফাইনালে প্রথম থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন। প্রতিপক্ষ ইয়ামাগুচিকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় করিয়েছেন। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে দু’জনের মধ্যে। ৩১ বছরের ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার কৌশলের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি বিশ্বের তিন নম্বর ইয়ামাগুচি।এই নিয়ে ষষ্ঠ বার জাপান ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন ইয়ামাগুচি। বিশ্বক্রমতালিকাতেও তিনি সিন্ধুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনিই মহিলা সিঙ্গলসে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। গত চার বছরে ইয়ামাগুচিকে পুরো খেলা হওয়া কোনও ম্যাচে হারাতে পারেননি সিন্ধু। স্বাভাবিক ভাবেই বেশ খানিকটা পিছিয়ে থেকে ফাইনাল খেলতে নেমে ছিলেন বিশ্বের ১০ নম্বর তারকা। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকে বোঝাই যায়নি ফাইনালে সিন্ধু ফেভারিট নন।
একের পর এক স্ম্যাশ, প্লেসিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছেন। প্রথম গেম প্রথমেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। তার পর নিজেই কয়েকটি ভুল করেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩-৩ করে ফেলেন ইয়ামাগুচি। একটা সময় পর্যন্ত দু’জনে সমানে সমানে পাল্লা দেন। সিন্ধু ৯-৬ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও সমতা ফেরান ইয়ামাগুচি। এক সময় ফল ছিল ১১-১১। ৩৬ শটের র্যালি জিতে সমতা ফেরানোর পর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন সিন্ধু। এগিয়ে যান ১৬-১২ ব্যবধানে। এই ব্যবধান আর কমাতে পারেননি ইয়ামাগুচি। শেষ পর্যন্ত ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম জেতেন সিন্ধু।দ্বিতীয় গেমেও ভাল লড়াই হয়েছে একটা সময় পর্যন্ত। শুরুতে মরিয়া ইয়ামাগুচির দাপট ছিল একটু বেশি। টানা ছ’পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি পয়েন্ট জেতেন ৪৪ শটের র্যালির পর। এক সময় ইয়ামাগুচি ১১-৭ ব্যবধানেও এগিয়ে ছিলেন তবে হাল ছাড়েননি সিন্ধু। পাল্টা লড়াইয়ে ম্যাচে ফেরেন। এক সময় সিন্ধু ১৭-১৫ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ৩৮ শটের র্যালি জিতে সমতা ফেরান জাপানের তারকা। প্রতিপক্ষের ভুলেই আবার ১৯-১৭ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। এর পর আর ইয়ামাগুচিকে কোনও সুযোগ দেননি। দ্বিতীয় গেমও জিতে নেন ২১-১৭ ব্যবধানে।২০২২ সালের তাইল্য়ান্ড ওপেনে শেষ বার ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে ছিলেন সিন্ধু। ২০১৯ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটাই সিন্ধুর সবচেয়ে বড় সাফল্য।