সোনাঝুরিতে চলল বুলডোজার, জঙ্গল বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ বন দফতরের

May 27, 2026 - 14:40
 13
সোনাঝুরিতে চলল বুলডোজার, জঙ্গল বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ বন দফতরের

সোনাঝুরি জঙ্গল-এ এবার কড়া পদক্ষেপ নিল বন দফতর। জঙ্গল রক্ষায় সোমবার বুলডোজার চালিয়ে একাধিক রাস্তা কেটে বন্ধ করে দেওয়া হল, যাতে কোনওভাবেই চারচাকা গাড়ি জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি, জঙ্গলের সৌন্দর্য ঢেকে রাখা হোটেল-রিসর্টের অসংখ্য বিজ্ঞাপনী সাইনবোর্ডও উপড়ে ফেলা হয়।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া শান্তিনিকেতন-এ আগত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরির খোয়াই হাট। সারা বছর হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হলেও বন দফতরের জমিতে কোনও ব্যবসায়িক হাট বসার নিয়ম নেই। অভিযোগ, এই হাট সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।

এছাড়াও, জঙ্গলের ভিতরে নির্বিচারে চারচাকা গাড়ির প্রবেশ, প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ এবং পরিবেশ দূষণের ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল জঙ্গলের পরিবেশ। এই অভিযোগে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। মামলার রায় এখনও বিচারাধীন।

গত কয়েক বছরে সোনাঝুরি জঙ্গলের আশেপাশে গড়ে উঠেছে কয়েকশো হোটেল ও রিসর্ট। অভিযোগ, অধিকাংশই নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৈরি। সেই সব হোটেল-রিসর্টের বিশাল বিজ্ঞাপনী বোর্ড জঙ্গলের সৌন্দর্য ঢেকে ফেলেছিল। সোমবার বন দফতরের অভিযানে রাস্তার দু’ধারে কংক্রিটে বসানো একাধিক লোহার সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলা হয়।

বোলপুর বন দফতরের রেঞ্জার জ্যোতিষ বর্মন-এর নেতৃত্বে সকাল থেকেই শুরু হয় এই অভিযান। উপস্থিত ছিলেন অনন্যা দে। যদিও সরকারি নির্দেশের কারণে বন দফতরের আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

সোনাঝুরি হাটের দায়িত্বে থাকা সুকেশ চক্রবর্তী এবং হোটেল ব্যবসায়ী গণেশ ঘোষ বলেন,

> “এটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। আমরা প্রথম থেকেই চাইতাম, হাট এলাকায় যেন চারচাকা গাড়ি প্রবেশ না করে। বন দফতর সেই কাজ করেছে। আমাদের কোনও সমস্যা না হলে, আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

ইতিহাস বলছে, প্রায় ২০০০ সালের দিকে সোনাঝুরি জঙ্গলে গুটিকয়েক আদিবাসী শিল্পী এবং বিশ্বভারতী-র কলাভবনের পড়ুয়াদের হস্তশিল্প নিয়ে সপ্তাহে একদিন ‘শনিবারের হাট’ বসত। প্রয়াত আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীর এই হাটের সূচনা করেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকে হাটের চরিত্র। সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে প্রতিদিন হাট বসতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, বহিরাগত ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায় হাটের বড় অংশ। স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোন খাতে জমা পড়ত, তার কোনও স্বচ্ছ হিসাব নেই।

আরও অভিযোগ, হাটে আসা চারচাকা গাড়ির জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিমাই দাস একটি বেআইনি পার্কিং জোন তৈরি করেছিলেন। পরে বিজেপি নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে সেই পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় পরিবেশ আদালতের শুনানিতে এখনও পর্যন্ত কেউ স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি, রাজ্য সরকারের কোন দফতরের নির্দেশে সোনাঝুরি জঙ্গলের মধ্যে খোয়াই হাট পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি বন বিভাগের জমি দখল করে একাধিক হোটেল-রিসর্ট গড়ে ওঠার তথ্যও আদালতে জমা পড়েছে।