মাওবাদী নেত্রী গ্রেফতার, সক্রিয় মাওবাদীর আত্মসমর্পণ ও গর্গ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন পুলিশ কমিশনার
কলকাতা:
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলেন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। মাওবাদী নেত্রী গ্রেফতার, সক্রিয় মাওবাদীর আত্মসমর্পণ, গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার-সব বিষয়েই এদিন তিনি প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে 'বেলা' দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কাজ করছিলেন বলে দাবি পুলিশের। সম্প্রতি উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাড়ি নদিয়ার চাকদহ এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডে শ্রদ্ধা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তাকে ধরিয়ে দিতে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। এর আগে ২০০৬ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কলকাতা পুলিশেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। তিনি ঝাড়খণ্ড রিজিওনাল কমিটির সদস্য বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, সক্রিয় মাওবাদী মাধাই পাত্র এদিন আত্মসমর্পণ করেছেন। হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ কমিশনার জানান, মূলস্রোতে ফিরে সাধারণ জীবনযাপন করার ইচ্ছা থেকেই তিনি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অজয় কুমার নন্দ বলেন, ইভিএম টেম্পারিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগে উত্তর জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ময়দান থানার সাইবার ক্রাইম বিভাগ মামলা রুজু করে। অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। দু'বার নোটিশ পাঠানো হলেও হাজিরা না দেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটির তরফে নেওয়া হয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।