মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব কলকাতার হোটেল শিল্পে, এলপিজি সংকটে টানাটানি, বাড়ছে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে শহরের ছোট-বড় খাবারের হোটেলগুলিতেও। রান্নার গ্যাস তথা এলপিজি সরবরাহে অনিয়ম ও ঘাটতির জেরে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন কলকাতার স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা থেকে শুরু করে ছোট রেস্তোরাঁর মালিকরা।
প্রতিদিন যাঁরা রাস্তার ধারের ছোট হোটেল বা খাবারের দোকানে খেয়ে থাকেন, তাঁদের ভরসার জায়গাগুলিই এখন একের পর এক বন্ধের মুখে। অভিযোগ, নিয়মিত এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ না থাকায় অনেক হোটেলই ঠিকমতো রান্না করতে পারছে না। ফলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হোটেল মালিকদের কথায়, বাধ্য হয়ে এখন কাঠ ও কয়লার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু সেগুলিও সহজলভ্য নয়। চড়া দামে বিভিন্ন জায়গা থেকে জোগাড় করতে হচ্ছে জ্বালানি। এতে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমনই রান্নার সময়ও বেশি লাগছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষ করে দুপুরের ভাতের হোটেল কিংবা সন্ধ্যার স্ন্যাকস ও ফাস্টফুডের ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছে। সময়মতো খাবার তৈরি না হওয়ায় অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন। আবার খরচ বাড়লেও সেই অনুযায়ী দাম বাড়াতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। কারণ দাম বাড়ালে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
ফলে একদিকে বাড়তি খরচ, অন্যদিকে কমছে বিক্রি—এই দুইয়ের চাপে পড়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন হোটেল মালিকরা। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত যদি এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে শহরের বহু ছোট খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে যেমন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব যে স্থানীয় অর্থনীতি ও ছোট ব্যবসার উপর কতটা গভীরভাবে পড়তে পারে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কলকাতার হোটেল শিল্পে।