সিকিমের সুড়ঙ্গে বিপর্যয়, মৃত বেড়ে ২২
সিকিমের নামচিতে ধসে পড়া নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ থেকে বুধবার রাতে উদ্ধার হল আরও ৯ জনের দেহ। এ নিয়ে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২২। দুর্ঘটনার সময়ে সুড়ঙ্গে ২৫ জন কাজ করছিলেন।দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে জলপাইগুড়িরও বেশ কয়েক জন শ্রমিক রয়েছেন। উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগেই একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। এ বার আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল) থেকে আরও এক উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে সিকিমে। বুধবার রাতে সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই উদ্ধারকারী দল বিপর্যয়স্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগায়।বিপর্যয়ের খবর পেয়ে আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিংহকে পড়শি রাজ্যে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরাকেও সিকিমে পাঠানো হয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য।
নামচির পুলিশ সুপার সোনম ডোলমা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত মোট ২২টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে বুধবার রাতেই ৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়। ধসে পড়া সুড়ঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান নামচির জেলা তথ্য আধিকারিক (ডিআইও)। বাকিদের সন্ধান পেতে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।দুর্ঘটনাস্থলে মৃত শ্রমিকদের মধ্যে কেউ কেউ মিথেন গ্যাসের প্রভাবে দম বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পুড়ে যাওয়ার কারণেও মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে জানাচ্ছে পিটিআই। এক মৃতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ এবং পুড়ে যাওয়ার (বার্ন ইনজুরি) কথা উল্লেখ রয়েছে। সিকিমের এটিএনএম হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার সুরেশ মদন রাসাইলি বলেন, “মিথেন গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে থাকতে পারে। এই গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বেঁচে থাকার জন্য ২-৩ মিনিটের বেশি সুযোগ দেয় না।” তিনি আরও জানান, দেহে কিছু জায়গায় ক্ষতের পাশাপাশি পুড়ে যাওয়ার চিহ্নও মিলেছে। সুড়ঙ্গে ধস নামার ফলে শরীরে ক্ষতচিহ্ন হয়ে থাকতে পারে। তবে পুড়ে যাওয়ার ফলে তৈরি ক্ষতগুলি বিস্ফোরণের ফলেই হয়েছে বলে মনে করছেন হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার।। অনুমান করা হচ্ছে, মিথেন গ্যাস লিক হওয়ার ফলেই বিস্ফোরণটি হয়েছে।