বাংলাদেশে কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
ঢাকা থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন-এই প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দল, বিশ্লেষক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, শুরুতে এক ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পাঁচ জ্যেষ্ঠ নেতার নাম। তাঁরা হলেন-ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খান।
তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। দল ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গটি অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসতে পারে। যদিও বিষয়টি বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে কেবল দলীয় সমীকরণ নয়; সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলোও বিবেচনায় আসবে। ফলে এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, যিনি অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য এবং তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত। সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নামও বেশ আলোচনায় রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ। অন্যদিকে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার কারণে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় উঠে আসছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সম্প্রতি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং তাঁর মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথাও বিভিন্ন পর্যায়ে জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নানা জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে। বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তাই শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই নয়; দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নজরও এখন আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। সংবিধান অনুযায়ী তিনি পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালন করেন তিন বছর তিন মাস। তিনি গত ২৬ জুলাই বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভন গ্রিন ভিলায় চলে যান।