পশ্চিম বর্ধমান, আসানসোল বিজেপিকে উৎখাত করেই দিল্লি যাবো-আসানসোলে হুঙ্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার শিল্পাঞ্চল আসানসোলে অনুষ্ঠিত হল এক বিশাল জনসভা। আসানসোলের কল্যাণপুর হাউজিং সংলগ্ন এডিডিএ ময়দানে আয়োজিত সভা থেকে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বিজেপিকে উৎখাত করে তবেই দিল্লি যাবো।"
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানান, তাঁর প্রচেষ্টায় বহু নাম ইতিমধ্যেই পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনও অনেক নাম তোলা বাকি। বাংলায় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন এবং এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিরোধী প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শিখ সম্প্রদায় ও বিহারি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। আসানসোল-রানীগঞ্জকে আন্তর্জাতিক মানের শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। গ্যাস সেলের কারখানা, শিল্প করিডর গড়ে তোলা এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ধস কবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্র দায়ী। কয়লা চুরির প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে থাকায় তার দায়ও কেন্দ্রেরই।
বক্তব্যের শেষে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দেন, যেন কেউ নিজের ব্যাঙ্কের তথ্য অন্য কারও সঙ্গে ভাগ না করেন। একই সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "সাহস থাকলে সামনাসামনি লড়াই করুন। এবার গণতন্ত্রেই বদলা হবে, বাংলা জিতবে।"
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক ও তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, পাণ্ডবেশ্বরের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জামুড়িয়ার হরেরাম সিং এবং কুলটির প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক সহ
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।