উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু মমতার: আলু চাষীদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস, উন্নয়নেই জোর-বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ

Mar 26, 2026 - 10:18
 0
উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু মমতার: আলু চাষীদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস, উন্নয়নেই জোর-বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ

জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করে এদিন প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই ময়নাগুড়ি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নষ্ট করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যতদিন বেঁচে আছি, এনআরসি করে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না।" কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, পাকা বাড়ি, টিভি বা স্কুটি থাকলেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে বহু মানুষকে। এর বিপরীতে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে সকলকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

চা-বাগান এলাকার উন্নয়ন, রেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প সম্পূর্ণ রাজ্যের টাকায় চালানো হচ্ছে এবং তা সকলের জন্য উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, "ওরা মানুষের জীবন কাড়ে, আমরা জীবন গড়ে দিই।"

এদিন অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষীদের প্রসঙ্গও বিশেষভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, বৃষ্টির কারণে যেসব আলু চাষীর ক্ষতি হয়েছে, তাদের বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

বক্তব্যে তিনি কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করে নোটবন্দি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গও তোলেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক এনে ভোেট প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে-সেক্ষেত্রে বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক আক্রমণের সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি "এন্টি বাংলা" এবং তারা শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় সক্রিয় থাকে। "আমি কম বলি, কাজ বেশি করি"-এই বার্তা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন প্রার্থনা করেন।

সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে উন্নয়ন, কৃষকস্বার্থ ও ভোটাধিকার রক্ষার বার্তা দিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।