বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ

May 22, 2026 - 14:55
 0
বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ

হাওড়া: পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবার ঐতিহাসিক বেলুড় মঠ পরিদর্শনে গেলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন-এর বিশ্ব সদর দফতরে পৌঁছালে মঠ প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালনের আগে আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ গ্রহণ করাই ছিল তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বেলুড় মঠে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে মূল শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং পুজো দেন। পরে তিনি স্বামী বিবেকানন্দ-এর স্মৃতিবিজড়িত কক্ষে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির ও শ্রীশ্রীমা সারদা দেবীর মন্দিরেও প্রণাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মঠের শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ তথা প্রেসিডেন্ট মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। মঠের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে ও প্রসাদ প্রদান করে স্বাগত জানান। স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ রাজ্যের শান্তি, জনকল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুখ্যমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও রামকৃষ্ণ মিশনের মানবসেবার দর্শন সমাজকে সর্বদা পথ দেখায়। বাংলার মানুষের সেবা করার নতুন দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই তিনি এই পুণ্যভূমিতে আশীর্বাদ নিতে এসেছেন বলে জানান। পাশাপাশি মঠের সন্ন্যাসীদের সমাজসেবামূলক কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।

আধ্যাত্মিক সফর শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হাওড়ায় পূর্বনির্ধারিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে রওনা হন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের কাজের শুরুতেই বেলুড় মঠ পরিদর্শন এবং তারপর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার এই পদক্ষেপ রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশাসনিক তৎপরতারই বার্তা বহন করছে।