*উর্দির নিচে কলম-যোদ্ধা; সুন্দরবনের সিভিক ভলান্টিয়ার কর্ণধরের ঝুলিতে ১৬০০ কবিতা ও উপন্যাসের সম্ভার*
অমিত মণ্ডল;উর্দির দায়িত্ব পালন আর কলমের শৈল্পিক লড়াই—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আজ অনন্য নজির গড়লেন বাসন্তীর কর্ণধর মণ্ডল। পেশায় তিনি বাসন্তী থানার একজন সিভিক ভলান্টিয়ার, কিন্তু নেশায় একজন জাত সাহিত্যিক। সুন্দরবনের নোনা মাটির জীবনসংগ্রামকে কলমের ডগায় ফুটিয়ে তুলে তিনি ইতিমধ্যেই লিখে ফেলেছেন প্রায় ১৬০০ কবিতা, ৩০টি ছোটগল্প এবং ২টি উপন্যাস।
বাসন্তীর উত্তর সোনাখালি গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে কর্ণধরের বেড়ে ওঠা। বাবা জন্মেজয় মণ্ডল ও মা জয়ন্তী মণ্ডলের টানাটানির সংসারেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন মেধাবী কর্ণধর। ২০০৪ সালে মাধ্যমিক এবং ২০০৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলেও আর্থিক অনটনের জেরে কলেজের গণ্ডি পেরোতে পারেননি তিনি। কিন্তু স্কুলজীবন থেকেই ডায়েরির পাতায় বন্দী হতে শুরু করেছিল সুন্দরবনের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা।
২০১৩ সালে বাসন্তী থানায় সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজে যোগ দেওয়ার পর তাঁর জীবনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা দূর হয়। কিন্তু তাতে সাহিত্যচর্চায় ছেদ পড়েনি। ডিউটির ফাঁকে বা বাড়ি ফিরে বিশ্রামের সময়টাই তাঁর সৃজনশীলতার মুহূর্ত।
এই বিপুল সৃষ্টিকর্মের জন্য তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে অজস্র পুরস্কার ও সম্মান। এক সময় যাঁকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি, আজ তাঁর হাতের কলমের জোরেই তিনি সুন্দরবনের গর্ব হয়ে উঠেছেন।
কর্ণধরের লেখায় বার বার উঠে আসে সুন্দরবনের বাদাবনের মানুষের হাড়ভাঙা খাটুনি, জঙ্গল ও নোনা জলের লড়াই। দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই তিনি প্রমাণ করেছেন, মেধা ও প্রতিভা কোনও নির্দিষ্ট পেশার গণ্ডিতে আটকে থাকে না। পুলিশি কর্তব্যের কঠিন ঘেরাটোপেও তাঁর ভেতরের কবিসত্তা আজ সমান সজীব।