23 Jun 2021, 3:05 AM (GMT)

Coronavirus Stats

30,067,305 Total Cases
391,385 Death Cases
29,034,224 Recovered Cases
রাজ্য

নাটকীয়ভাবে রাজ্য সভার সংসদ সদস্য পদ ও তৃণমূল থেকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী

রাজকুমার সূত্রধর :  ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান করি। উনি বড় লিডার। কিন্তু এখন মা মাটি মানুষ এই ভাবনা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরে গিয়েছেন। উনি দলের জন্য একেবারে সময় দিচ্ছেন না। দল কর্পোরেট সংস্থা চালাচ্ছে। সেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তাঁর সদস্যদের কোনও সম্মান নেই। দলের ভিতর মন খুলে কথা বলা যাচেছ না। সেই কারণ দমবন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই আমার অন্তর আত্মার ডাক শুনে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। একই সঙ্গে তৃণমূল দল ছাড়লাম।

এই কাজ করতে পেরে স্বস্তি লাগছে। খুব আনন্দ হচ্ছে।’ উপরের মন্তব্য সবটাই তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদীর। শুক্রবার একেবারে নাটকীয়ভাবে এই ভাষাতেই তৃণমূল দল ছাড়ার আগে ও পরে এমন সব কথা বলেছেন তিনি। সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় হল যা এর আগে কখনও হয়নি। রাজ্যসভার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে তিনি পদত্যাগ ঘোষণার জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর এই ঘোষণা কয়েক সেকেন্ডের ভিতর সারা দেশের নজরে এসে যায়। অনেকে এর ভিতর রাজনৈতিক কৌশল দেখতে পাচ্ছে। কারণ,

এই পদত্যাগের কথা বলতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হিংসা ও অশান্তির বাতাবরণ তৈরির কথাও সংসদে তুলে ধরেছেন। এর ভিতর দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূল সরকার অশান্তি তৈরি করে রেখেছে। যা বিজেপিকে সুবিধা করে দেবে। এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ মহলের। এদিন রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের উপর আলোচনা চলছিল। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য বলার পর আচমকা দীনেশ ত্রিবেদী উঠে দাঁড়ান। তিনি ডেপুটি চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানান। তাঁকে কিছু বলতে দেওয়া হোক। এজন্য ২ মিনিট সময় চান। সে সময় কেউ বুঝতে পারেননি উনি এভাবে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তিনি শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। এরপর বলেন,

আমার রাজ্যেব সর্বত্র হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। অথচ একজন রাজ্যসভার সদস্য হয়ে এখানে চুপ করে বসে থাকতে হচ্ছে। কোনও কথা বলতে পারছি না। এরপর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, বঙ্কিমচন্দ্র, ক্ষুদিরাম ও অরবিন্দ ঘোষের নাম তুলে বলেন, আমি এই সব মহাত্মার ভূমি থেকে এসেছি। তাই এসব আর দেখতে পারছি না। এই সময় রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান তাঁকে থামতে বলেন। বাধাও দেন। কিন্তু দীনেশ ত্রিবেদী অনুনয় বিনয়ের ভঙ্গিতে আর সামান্য সময় বলে তাঁর বক্তব্য চালাতে থাকেন। তিনি বলেন, আমি একটা দলে আছি। তাই দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হচ্ছে। অথচ আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে। এর চেয়ে ইস্তফা দিয়ে বাংলায় গিয়ে কাজ করা ভালো। তিনি বলেন,

সকলের কখনও কখনও অন্তরাত্মার ডাক শুনতে হয়। আমি আমার অন্তরাত্মার ডাক শুনেছি। অন্তরাত্মা বলছে, এভাবে বসে থেকে লাভ নেই। তার চেয়ে ইস্তফা দাও। সেই ডাক শুনেই তৃণমূল ছাড়ছি। রাজ্যসভার সদস্য পদও ছাড়লাম। তবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ডেপুটি চেয়ারম্যান তাঁকে বলেন, এভাবে পদত্যাগ গ্রহণ করা যায় না। আপনি সরকারি নিয়ম মেনে চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি জানান।
এদিকে এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে এরপর কি তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? এক সময় তৃণমূল দীনেশবাবুকে রেলমন্ত্রী করেছিল। ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তৃণমূল নেত্রী মন্ত্রীত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন।

তারপর থেকে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছিল। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় বারাকপুরে ফের তাঁকে প্রার্থী করা হয়। অর্জুন সিং সেখান থেকে প্রার্থী হতে চেয়ে দরবার করেছিলেন। কিন্তু মমতা তা শোনেননি। ফলে অর্জুন সিং ক্ষোভে দল ছাড়েন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে বারাকপুর থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হন। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যাপাধ্যায় বলেন, পিছনে থেকে দলকে ছুরি মারলেন দীনেশবাবু। ওঁনাকে টিকিট দেওয়ার জন্য অর্জুনকে হারাতে হয়েছে আমাদের। আর সেই তিনি বড় বড় কথা বলছেন। উনি মানুষের জন্য কোনও সময় কাজ করেননি। তাই উনি

চলে গেলে দলের একটুও ক্ষতি হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/biswasam/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757