15 Jun 2021, 3:42 AM (GMT)

Coronavirus Stats

29,617,058 Total Cases
377,061 Death Cases
28,345,261 Recovered Cases
খবরদক্ষিণ ২4 পরগণা

মাঘী পূর্ণিমায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ডুব সাগরে, করোনা পরিস্থিতিতে জোর ই-স্নানে

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মকর সংক্রান্তির মতো শুক্রবার মাঘী পূর্ণিমার ভোরে পুণ্যার্থীরা ডুব দিলেন সাগরজলে। এদিন ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই হাজার হাজার পুণ্যার্থী ডুব দিয়েছেন সাগরে। ভোরে সাগরদ্বীপে হাল্কা ঠান্ডার সঙ্গে ছিল উত্তুরে হাওয়া। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড় তেমন চোখে পড়েনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এবারের মেলায় ই-স্নানে জোর দিয়েছিল।

ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীরা তেমন ভিড় জমাননি। তবে সবকিছু উপেক্ষা করে গঙ্গাসাগর মেলার থেকে মাঘী পূর্ণিমায় মানুষের সমাগম অনেক বেড়েছে। সবই উপেক্ষা করে সাগরস্নান সেরেছেন তাঁরা। শুক্রবার সকাল থেকে যে মানুষের স্রোত শুরু হয়েছিল, বিকেল পর্যন্ত তাতে ভাটা পড়েনি। মাঘী পূর্ণিমার সময় শুক্রবার বেলা তিনটে ৫০ মিনিট থেকে শনিবার বেলা একটা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত।
এদিনও সকাল থেকে কাতারে কাতারে পুণ্যার্থীরা হারউড পয়েন্ট ও নামখানার বেনুবণ দিয়ে সাগরে ঢুকেছেন। সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি বৈভব তিওয়ারির নেতৃত্বে প্রচুর পুলিশকর্মী এদিন মোতায়েন করা হয়েছিল সাগরে।

গঙ্গাসাগরে কচুবেড়িয়াতে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় পুণ্যার্থীদের নিরাপদে সাগরে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির তরফেও প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক ভিড় সামাল দিয়েছেন। গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ থেকে সাগরে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। সকল পুণ্যার্থীদের জন্য খিচুড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পিএইচইর তরফে পুণ্যার্থীদের জন্য জলের পাউচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবারই মাঘী পূর্ণিমায় পুণ্যার্থীদের জন্য পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ওঠে।

এবার পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য দিতে বিশেষ নজর দিয়েছিল স্থানীয় গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েত। মেলার মাঠে তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল সামিয়ানা। ছিল শৌচালয়, পানীয় জলের ব্যবস্থা। শুক্রবার ভোর থেকেই পুণ্যার্থীদের সমাগম শুরু হয়। গঙ্গায় স্নান ও পুজো দিতে আসা মানুষকে যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেছিল তৃণমূল পরিচালিত গঙ্গাসাগর ঠিকাদার শ্রমিক ইউনিয়ন। গঙ্গাসাগরে যাঁরা মকরসংক্রান্তি মেলার ভিড়ের ঠেলায় আসতে পারেন না, তাঁরা এই সময় আসেন। নাগা সাধু সন্ন্যাসীদের আশীর্বাদ নিতে আর কপিল মুনি দর্শনে এবার লক্ষাধিক মানুষের ঢল নেমেছে।

পুণ্যার্থীদের জন্য সরকারিভাবে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রীদের ছাউনি বানিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও সাগর পঞ্চায়েত সমিতি। তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা। আনন্দ দিতে মেলা চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। একদিকে গাজন, আরেক দিকে যাত্রা।কোথাও আবার ম্যাজিক শো। পুণ্যলগ্নে পুণ্যস্নান সেরে কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে যে যাঁর বাড়ি ফিরছেন। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হরিপদ মণ্ডল বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোট পুণ্যার্থী হয়েছে দেড় লক্ষেরও বেশি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button