12 Jun 2021, 11:10 AM (GMT)

Coronavirus Stats

29,359,155 Total Cases
367,097 Death Cases
27,911,384 Recovered Cases

Top News

  • সুন্দরবনের নদীবাঁধগুলির বিস্তর ক্ষতি, বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়, কাল আসছেন মমতা

    সমরেশ মণ্ডল, সাগর: বুুুুধবার সকাল সকাল পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় হানা দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় যশ। তার দাপটে এবং পূর্ণিমার ভরা কোটালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার নদীবাঁধগুলির বিস্তর ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত আয়ত্তে আনতে এখন থেকেই ভাঙা বাঁধের প্রকৃত সংখ্যা হাতে পেতে চাইছে নবান্ন।

    মঙ্গলবার রাত থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে জেলাশাসক ও দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করে খোঁজ নিয়েছেন। বুধবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মোট ১৩৪টি বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই রিপোর্ট হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী শুক্রবার গঙ্গাসাগরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সরজমিনে দেখতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন বলে জানা গিয়েছে।

    বুধবার সুন্দরবনের উপকূলে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার।জলোচ্ছ্বাসের জেরে পাথরপ্রতিমা, সাগর, নামখানা, কুলতলি, কুলপি, রায়দিঘি, গোসাবা এলাকার একাধিক জায়গায় বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকেছে। মৌসুনি, ঘোড়ামারা, বঙ্কিমনগর, ফ্রেজাররগঞ্জ, বকখালিতে বাঁধ লাগোয়া কাঁচাবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দির চত্বর সাগরের জলে ডুবে গিয়েছে। মন্দিরের সামনে প্রায় কোমরসমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সাগরের বঙ্কিমনগর ও সুমতিনগরের নদীবাঁধ আম্ফান ঝড়ের ফলে অনেকটাই খারাপ অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে দ্রুত সাগরের বিধায়ক বর্তমানে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার উদ্যোগে নতুন বাঁধের কাজ শুরু হয়েছিল।

    বোল্ডার ফেলে নদীবাঁধ অনেকটাই মজবুত করা হয়েছিল। কিন্তু যশ ঘূর্ণিঝড় ও পূর্ণিমার ভরা কোটালে সমুদ্রের জল অনেকটাই বেড়ে ওঠায় নদীবাঁধ উপচে নোনাজল ঢুকে পড়ে সাগরের বিভিন্ন জায়গায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগরদ্বীপের বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ১৫ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিচু এলাকাগুলি বানভাসি হয়েছে।সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, যশের সঙ্গে ভরা কোটালের কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে বুধবার দুপুর ১টা— এই সময়ের উপর বেশি নজর রেখেছিল সেচ দপ্তর।

    জলোচ্ছ্বাসের কারণেই বাঁধের বিস্তর ক্ষতি হয়েছে। আপাতত বাঁধ নিয়ে সেচ ও সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর মারফত প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছে নবান্ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বাঁধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হাতে পেলেই দ্রুত বাঁধ মেরামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।

     

  • নারদ মামলার শুনানির জন্য ৫ সদস্যের বেঞ্চ গড়লেন প্রধান বিচারপতি, সোমবার শুনানি

    স্টাফ রিপোর্টারঃ নারদকাণ্ডে অভিযুক্ত ৪ নেতামন্ত্রীর জামিনে স্থগিতাদেশের ওপর শুনানির জন্য ৫ সদস্যের বেঞ্চ গঠন করলেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল। শুক্রবার হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি যে ৫ সদস্যের বেঞ্চ তৈরি করেছেন তাতে রয়েছেন তিনি নিজে।

    সঙ্গে রয়েছেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি হরিশ টেন্ডন, বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বেলা ১১টায় কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অর্থাৎ শনি ও রবিবার গৃহবন্দি থাকতে হবে ফিরহাদ-সুব্রতদের।

  • কোভিড যুদ্ধে ২২ কোটি টাকা দান প্রিয়াঙ্কার

    সংবাদ সংস্থা : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেঙে পড়েছে ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। নিত্য বাড়তে থাকা সংক্রমিতের সংখ্যা এবং সেই সঙ্গে মৃত্যু সংখ্যা, নাজেহাল চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। রোগীদের সেবায় প্রানপাত করছে চিকিৎসকরা। সেই চিকিৎসকদেরও প্রান কেড়ে নিচ্ছে করোনা।

    ভারতের করোনা যুদ্ধে এগিয়ে এসেছেন বিশ্ব তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া । গঠন করেছিলেন একটি কোভিড ত্রাণ তহবিল।ভারতের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রিয়াঙ্কা শুরু থেকেই নিজের উদ্বিগ্নতা দেখিয়ে এসেছেন। গতমাসে ভারতের জন্যে তৈরি করেছিলেন কোভিড ত্রাণ তহবিল। ‘টুগেদার ফর ইন্ডিয়া’ নামে গঠিত এই তহবিলে সকলকে নিজের সামর্থ্য মত অনুদান দিয়ে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছিলেন। স্বামী নিক জোনাসকে সঙ্গে নিয়ে এই উদ্যোগ তিনি গঠন করেছিলেন।

    প্রিয়াঙ্কা এবং নিকের গঠিত এই তলবিল ৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছ। ভারতীয় অর্থে যা প্রায় ২২ কোটি টাকা। মঙ্গলবার প্রিয়াঙ্কা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যাদের অনুদানের সাহায্যে এই তহবিল গঠিত কয়েছে।

  • ক্ষতিগ্রস্থ গুজরাট পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, ক্ষতিপূরণ ১,০০০ কোটি টাকা

    স্টাফ রিপোর্টার : বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় তাওতে’র দাপটে লন্ডভন্ড প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাট। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৪৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাই বুধবার আকাশপথে গুজরাটের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।

    সমগ্র রাজ্য সহ রাজ্যবাসীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।এদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে দিল্লি থেকে গুজরাটের ভাবনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আকাশপথে উনা, দিউ এবং ঝড়ে বিধ্বস্ত অন্যান্য অঞ্চলগুলি খতিয়ে দেখেন। এরপরই আমেদাবাদে পৌঁছে উচ্চকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।ঝড়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের। গুজরাটের তটীয় এলাকায় লক্ষাধিক কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে।

    বহু গাছপালা, ল্যামপোস্ট, ইলেকট্রিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এদিন সেই পরিস্থিতি দ্রুত মেরামত করার নির্দেশ দেন তিনি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যকে ১,০০০ কোটি টাকা এবং ঝড়ে প্রাণহারাদের প্রত্যেক পরিবারকে 2 লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।তবে গুজরাট ছাড়া এই ঝড়ে প্রভাবিত হয়েছে মহারাষ্ট্র, গোয়া এবং কর্ণাটকের বেশকিছু উপকূলবর্তী এলাকা। সেইসব এলাকা পরিদর্শনে যাননি প্রধানমন্ত্রী।

    তা নিয়ে রাজনৈতিক সুর ছড়িয়েছে বিরোধী দলের নেতারা। সেই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মন্ত্ৰী এবং এনসিপি দলের মুখপাত্র নবাব মালিক প্রশ্ন তোলে টুইট করেন। লেখেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী দমন, দিউ এবং গুজরাটের ঝড় বিধ্বস্ত এলাকা গুলি পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু মহারাষ্ট্র পরিদর্শনে এলেন না।

    এটি কি সম্পূর্ন ভেদাভেদ নয়?’ শিবসেনা প্রমুখ সঞ্জয় রাউত প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানেন তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাটের থেকে মহারাষ্ট্রে এক শক্ত সমর্থ সরকার রয়েছে’।

  • করোনা মোকাবিলায় ৫০ লক্ষ টাকা দান রজনীকান্তের

    সংবাদ সংস্থা : দেশজুড়ে মারণ ভাইরাসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পরিস্থিতি। দিনে দিনে রেকর্ড হারে মানুষজন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। থেমে নেই মৃতের সংখ্যাও। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঁধ সেধেছে দেশের বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো।

    হাসপাতালে নেই শয্যা, মিলছে না পর্যাপ্ত অক্সিজেনও। এহেন সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে দেশের তারকারাও। এবার সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন মেগাস্টার রজনীকান্ত।সোমবার এই তারকা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের সাথে দেখা করেন এবং তাঁর কোভিড -১৯ ত্রাণ তহবিলে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেন।

    সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে রজনীকান্তও ভক্তদের কাছে কোভিড প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করার আবেদন জানিয়েছেন।

  • নারদ মামলায় শুভেন্দুর নাম নেই কেন, প্রশ্ন স্যামুয়েলের

    সোমবার নারদ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনায় ভীষণ খুশি নারদ স্ট্রিং অপারেশনের নেপথ্যে থাকা সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল। কিন্তু তিনি আশ্চর্য এই গ্রেপ্তারের তালিকায় নাম নেই বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

    নারদ নিউজের প্রাক্তন অধিকর্তা এদিন জানান, “বিচার পেতে অনেকটা সময় লেগে গেল। কিন্তু, দেরি হলেও বিচার হয়েছে। আজ আমি ভীষণ খুশি। ২০১৬ সালে এই ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। আর আজ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীও তো আমার থেকে টাকা নিয়েছেন। তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করা হল না কেন? সবার জন্যই এক বিচার হওয়া দরকার।’’ এই একই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের বিশিষ্ট নেতারা।

    এদিন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, ‘আমারও সেই একই প্রশ্ন, এই ঘটনায় মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারীরও নাম জড়িয়ে রয়েছে, তবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলো না কেন?”

  • করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার হবে না প্লাজমা থেরাপি, জানাল টাস্ক ফোর্স

    বিশ্ব সমাচারের ওয়েবডেস্কঃ করোনা রোগীদের চিকিৎসা থেকে বাদ পড়ল প্লাজমা থেরাপি। একদিন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলিতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা হত। গত সপ্তাহে এই নিয়ে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে উচ্চ পদস্থ কর্তা, বিজ্ঞানী ও বড় চিকিৎসকরা যোগ দিয়েছিলেন।

    তাঁরা চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে প্লাজমা থেরাপিকে বাদ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। এর আগে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে এই পদ্ধতি স্বল্প উপসর্গযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে মাঝারি রোগীদের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু একাধিক বিজ্ঞানী প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট অ্যাডভাইসর কে বিজয় রাঘবনকে একটি চিঠি দেন। সেখানে বলা ছিল, দেশে প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিকভাবে হচ্ছে।

    এরপর জাতীয় কোভিড টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, এই পদ্ধতি ছিল পরীক্ষামূলক। তাছাড়া এই পদ্ধতি রোগের সংক্রমণ কমাতে কার্যকরি নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই চিকিৎসা থেকে এই পদ্ধতিতে বাদ দেওয়া হল।

  • দুয়ারে শিক্ষক, করোনা আক্রান্তদের জন্য বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে ওষুধ-খাবার

    স্টাফ রিপোর্টারঃ পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষক । নাম দ্রোনাচার্য ব্যানার্জি। তবে করোনা আবহে এলাকাবাসীর কাছে তাঁর পরিচয় বিট্টুদা। গ্রামের মধ্যে কারও করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে যখন ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। তখন করোনা আক্রান্তদের পাশে দিন-রাত রয়েছেন তাঁদের বিট্টুদা।

    নিজেই রান্না করে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁদের কাছে। কারও ওষুধের প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় ফোন করছেন বিট্টুদাকে। সঙ্গে সঙ্গে হাজির হচ্ছেন এই শিক্ষক। করোনা আবহে দীর্ঘদিন বন্ধ স্কুল। স্নেহের পড়ুয়াদের ছেড়ে বাড়িতে বসে প্রায় ওষ্ঠাগত প্রাণ মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের এক প্রাথমিক স্কুলেপ শিক্ষক দ্রোণাচার্যের। তাই করোনা আবহে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াতে পথে নেমেছেন তিনি। করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি নিজের বেতনের টাকা খরচ করে রান্না করা খাবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। গরিব অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনেও ছুটে যাচ্ছেন তিনি।

    আর এই পুরো কাজটি তিনি করছেন একা। কোনও সংগঠন নয়। তিনি আর স্ত্রী মিলে এই অতিমারিতে তৈরি করেছেন তাঁদের ‘ছোট্ট’ সংগঠন। করোনা আক্রান্তদের জন্য নিজের হাতে রান্না করছেন স্ত্রী চৈতালী ব্যানার্জি। আর সেই সব রান্না নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন প্রাথমিক শিক্ষক দ্রোণাচার্য। এ বিষয়ে দ্রোণাচার্য বাবুর স্ত্রী চৈতালি দেবী জানিয়েছেন, স্বামী দীর্ঘদিন বিভিন্ন সময়ে সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এটা নতুন কিছু না।

    তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব যেন বেড়ে গিয়েছে। মহামারির দাপটে জেরবার সারা দেশ। মানুষের অবস্থা শোচনীয়। একদিকে করোনার আতঙ্ক, অন্যদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আর্থিক সংকট। এরকম পরিস্থিতিতে দ্রোণাচার্য বাবুর মত লোকেরাই অসহায় মানুষদের আশা-ভরসা।

  • দঃ সুন্দরবনে বাড়ছে কোরোনা রোগীর সংখ্যা, চিন্তিত প্রশাসন

    রাজকুমার সূত্রধর : পূর্ব ও দক্ষিণ সুন্দরবনের গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং পূর্ব ও ক্যানিং পশ্চিম এর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকহারে বেড়ে গিয়েছে। তা সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে প্রশাসন ও জেলা স্বাস্হ্য বিভাগের আধিকারিকদের। কারণ, ওই চারটি ব্লকের হাসপাতালে করোনা মোকাবিলায় যা পরিকাঠামো রয়েছে, তা এই সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যাপারে যথেষ্ট নয়।

    সেই কারণে ওই সব এলাকার রোগীরা এসে ভিড় করছেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। এমনিতে সাধারণ নানা ধরণের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চাপ নিতে হচ্ছে। তার ভিতর বাড়তি চাপ করোনার রোগী। এমন চলতে থাকলে
    আগামীদিনে এই হাসপাতালে রোগীদের জায়গা দেওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে নার্সদের। কারণ এখনই এখানে সব বেড ভর্তি হয়ে গেছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৫০টি বেড আছে।

    কিন্তু সেখানে বর্তমানে ৫৪-৫৫ জন ভর্তি আছেন। এছাড়া ১০ শয্যার সারি ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানেও কোনও বেড খালি নেই। চিকিৎসকদের কথায় এতটা চাপ শুধু ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের লোকজন হলে হত না। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য করোনা আক্রান্ত বাসন্তী, গোসাবা সহ একাধিক অঞ্চলের মানুষ এখানে চলে আসছেন। কিন্তু এই হাসপাতালে আর জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। এই রোগীদের মাটিতে ফেলে রাখা যাবে না। তাই দ্রুত কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে, সঙ্কট তৈরি হবে।

    হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার জানিয়েছেন, ক্যানিং স্টেডিয়াম এবং হাসপাতালের সারি ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর কথাবার্তা চলছে। এলাকার বিধায়কের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।এদিকে এই ব্লকে একটি সেফ হোম চালু করতে চেয়ে স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি দিলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস। নিজ উদ্যোগেই এই সেফ হোম চালাতে চাইছেন বলে চিঠিতে জানিয়েছেন। তাই স্বাস্থ্য দপ্তর যদি ডাক্তার এবং নার্স নিযুক্ত করে, তাহলে বাকি খরচ বহন করতে রাজি পরেশবাবু। তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যানিংয়ে সেফ হোম আছে দুই নম্বর ব্লকে। এক নম্বর ব্লক থেকে এর দূরত্ব অনেকটাই। তাই এখানে একটা সেফ হোম করলে অনেকটাই সুবিধা হবে। ব্লক সভাপতি শৈবাল লাহিড়ী বলেন, এ ব্যাপারে জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হযেছে ।

    তিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও বাড়াবার জন্য তৎপর হযেছেন । তা স্বীকার করেছেন জেলাশাসক পি উলগানাথন । তিনি বলেন করোনা রোগীদের জন্য আরও আসন ও পরিকাঠামো বাড়ানোর কাজ চলছে। ক্যানিং হাসপাতালে এজন্য নতুন নির্মাণ হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী সপ্তাহে তার কাজ শেষ হযে যাবে। সেখানে অনেক বেড করা হযেছে । পাশাপাশি ক্যানিং শিশু হাব এর তিনতলা পুরোটা করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হযেছে ।

    অক্সিজেন এর ঘাটতি রযেছে । আগামী সপ্তাহে এই সমস্যা মিটে যাবে। আমরা টার্গেট নিয়েছি ওই সময় এই দুটি চালু করা হবে আপাতত এমন পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। এটা হলে এখনকার সমস্যা আর থাকবে না।

  • কোভিড যুদ্ধে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দান করলেন সৌরভ ও ধাওয়ান

    সংবাদ সংস্থা : গুরুগ্রামের পুলিশের হাতে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর তুলে দিলেন শিখর ধওয়ন। ভারতের কোভিড যুদ্ধে সামিল হলেন তিনিও। টুইট করে নিজেই জানালেন সেই কথা।শুক্রবার গুরুগ্রাম পুলিশের টুইটারে দেখা যায় ধওয়নকে ধন্যবাদ জানাতে। সেই সঙ্গে পোস্ট করা হয় অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের ছবিও। সেই টুইটটি ধওয়ন রিটুইট করে লেখেন, ‘আতিমারির এই পরিস্থিতিতে যারা আমাদের পাশে রয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে ভাল লাগছে।

    আমি সব সময় তৈরি সাহায্য করার জন্য। এই অতিমারির সময় থেকে বেরিয়ে উঠে দাঁড়াবে ভারত’। এদিকে ধাওয়ানের পাশাপাশিকোভিড আর্তদের সাহায্যে এবার এগিয়ে এলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। বেহালার বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে দুটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দিলেন সৌরভ। কোভিডে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার কাজে তা ব্যবহার করা হবে। শনিবার সৌরভকে চিঠি লিখে অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের প্রাপ্তিস্বীকার করেন বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট।

    চিঠিতে তিনি লিখেছেন, তানিয়া ভট্টাচার্য নামে এক মহিলা মারফত তিনি দুটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা কোভিড রোগীদের চিকিৎসার কাজে তা ব্যবহার করা হবে। বেহালার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য সৌরভের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

Back to top button