বারুইপুরে ২৫৭ বছরের দুর্গাপুজোর আভিজাত্য এখনও নজর কাড়ে

প্রদীপকুমার সিংহ, বারুইপুর: বারুইপুরে ২৫৭ বছরের দুর্গাপুজোর প্রতিমা তৈরি হচ্ছে বনেদি বাড়িতে। বারুইপুর সাউথ গড়িয়ার বন্দ্যোপাধ্যায়দের বাড়ি এখনও সাবেকিয়ানা ও আভিজাত্যে ভরপুর। পুজোয় লর্ড হেস্টিংস সস্ত্রীক আসতেন এই জমিদার বাড়ির পুজো দেখতে।একসময় প্রায় প্রতি বছর জমিদার বাড়ির পুজোয় আসতেন ওয়ারেন হেস্টিংসও। সেই সময় ব্রিটিশ সরকারের অনেক পদাধিকারী ব্যক্তি এই জমিদার বাড়ির পুজোয় ঘুরে যেতেন।

আর তাতেই আভিজাত্য আর বানেদিয়ানায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠত জমিদার বাড়ির পুজো।নিয়ম ও নিষ্ঠা মেনে প্রতি বছর হয়ে আসছে এই পুজো।চম্পাহাটির সাউথ গড়িয়ার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো এলাকায় বিখ্যাত। প্রতি বছর এই পুজোয় বিসর্জনের সময় বন্দুক থেকে দু’টি ফাঁকা গুলির আওয়াজ করা হত।

মায়ের স্বর্গে প্রত্যাবর্তনে আগাম বার্তা পৌঁছে দিতে ছাড়া হত এক বিশেষ ধরনের পাখি।এছাড়াও এই পুজোয় তিনদিন ছাগ বলিও দেওয়া হত। জমিদার বাড়ির প্রতিমা আগে বিসর্জন করা হত। তারপর এলাকার অন্যান্য ঠাকুর বিসর্জন হত।জমিদার পরিবারের তরফে বর্তমান বংশধর ও ট্রাস্টির অছি পরমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষ মুঘল সাম্রাজ্যের খাজাঞ্চি হিসাবে কাজ করতেন। তাঁর নাম ছিলো রামকিশোর বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি ১৬৬৫ সালে এই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। তাঁর জমিদারি ছিল জয়নগরের দক্ষিণ বারাসত এলাকায়। আর কাছারি বাড়ি ছিল সাউথ গড়িয়ায়। তিনি এখানে এসে জমিদার বাড়ি তৈরি করেন। তারপর ঠাকুরদালান তৈরি করে দুর্গাপুজো শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর উত্তরসূরি যদুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুজোর দায়িত্ব ভার নেন। পরমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, যদুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুজোয় বেশ কিছু নতুনত্ব এনেছিলেন।

তাঁর আমলে এই পুজোর ট্রাস্টি গঠিত হয়। সাউথ গড়িয়া পুলিনবিহারী জয়েন্ট এস্টেট দেবোত্তর ট্রাস্ট। পারিবারের জমিদারি দায়িত্ব বদল হলেও পুজোর নিয়ম কানুনের কোনও পরিবর্তন হয়নি। এখনও পঞ্চমীতে মায়ের বোধন হয়। ষষ্ঠীতে বেলতলায় মায়ের অধিবাস ও সপ্তমীতে নবপত্রিকার স্নান দিয়ে শুরু হয় পুজো। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পুজা প্রাঙ্গণ থেকে ভোগ বিতরণ ও দরিদ্র নারায়ণ সেবা হয়।

অষ্টমীতে এখনও কুমারী পূজার চল রয়েছে। নবমীতে আগে পাঠা বলি হতো। বর্তমানে আখ, চালকুমড়া ও কলা বলি হয়। দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। বর্তমান প্রজন্মের বংশধররা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকলেও পুজোর ক’টা দিন সকলে মিলিত হন সাউথ গড়িয়ার এই বাড়িতে। আশপাশের বহু মানুষ আসেন সন্ধ্যারতি দেখার জন্য। জৌলুস খানিকটা কমলেও আভিজাত্য এখনও নজর কাড়ে।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!