নদীর নোনা জলে প্লাবিত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা

বিশ্ব সমাচার, সুন্দরবন : রবিবার গভীর নিম্নচাপ এবং পূর্ণিমার কটালের কারণে সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা ব্লকের কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে নদী বাঁধ ভেঙে নোনা জলে প্লাবিত হল গ্রাম। এদিন জি প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপুর গ্রামের কার্জন ক্রিক নদী বাঁধ এবং অচিন্ত্য নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের ১৬৪ নম্বর বুথের নদী বাঁধ ভেঙেছে।

এছাড়াও দুর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সেলেমারি নদী বাঁধ, কামদেবনগর গ্রামের গোবেদিয়া নদী বাঁধ, পশ্চিম চন্দননগর গ্রামের লিলু দাসের বাড়ির নিকট সপ্তমুখী নদী বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে। গোপালনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরে কৃষ্ণপুর গ্রাম, পাথরপ্রতিমার কলেজ ময়দান এবং বাসস্ট্যান্ডে নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়াও শ্রীধর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে। এদিকে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কারণে পাথরপ্রতিমায় আমন ধানের রোয়ার ক্ষতি হয়েছে। পানের বরজ এবং সবজি খেতেরও ক্ষতি হয়েছে বলে, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা যায়। এদিন অচিন্ত্যনগরের পূর্ব শ্রীপতি নগর গ্রামের কে প্লট বামন ঘাট ও মই পিঠের ফেরি সার্ভিস বেশ কিছু সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

যে কারণে যাত্রীরা ফেরি সার্ভিস ঘাটে জলবন্দি অবস্থায় আটকে পড়ে ছিলেন। এরপরই স্থানীয় দোকানদার এবং গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় তাঁদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে নদীর জল কমলে ভগ্ন নদীবাঁধ গুলি অস্থায়ীভাবে মাটি দিয়ে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে বলে জানান, পাথরপ্রতিমা গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দুলাল মন্ডল। মূলত দীর্ঘদিন নদী বাঁধে মাটি না দেওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে, তিনি জানান।

একই সঙ্গে স্থায়ী ভাবে নদী বাঁধ মেরামতের আরজিও তিনি জানিয়েছেন ব্লক প্রশাসনের কাছে। তবে নিম্ন চাপ কেটে গেলে স্থায়ী ভাবে নদী বাঁধের কাজ করা হবে বলে জানান, পাথরপ্রতিমার ব্লক প্রশাসন। অন্যদিকে কাকদ্বীপ ব্লকেরও বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে। এদিন সকালে তিলক চন্দ্রপুর সহ মৎস্য বন্দর এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হয়ে পড়ে। তবে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা সকাল থেকেই বিপর্যস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কমলকান্ত ভূঁইয়া জানান, “প্লাবিত এলাকা গুলি থেকে গ্রামবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এদিন নদীর জল বেড়ে যাওয়ার কারণে কাকদ্বীপের ভেতরের বাজারও নোনা জলে প্লাবিত হয়ে পড়ে। সাগর ব্লকেরও বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বঙ্কিমনগর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সকাল থেকেই এই সব এলাকা গুলিতে মাইকিং করে গ্রামবাসীদের সতর্ক করার কাজ চলছে। এদিন গঙ্গাসাগরের কপিল মুনি আশ্রমের চত্বরও নোনা জলে প্লাবিত হয়ে পড়ে। অপরদিকে নামখানা ব্লকের মৌশুনীর বাগডাঙ্গাতে চিনাই নদীর প্রায় ১০০ মিটার নদী বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকেছে এলাকায়। বালিয়াড়াতে চিনাই নদীর প্রায় ৩০০ মিটার বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে এলাকা।

এছাড়াও বালিয়াড়াতেই অপর প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় প্রায় ৩০০ মিটার নদী বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হল এলাকা। প্রায় ১৫০টি পরিবার এখন জলের তলায়। পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে মৌশুনী পর্যটন কেন্দ্রের। রবিবার সকাল বেলায় ফ্রেজারগঞ্জ থানার সামনে এক হাঁটু জল দাঁড়িয়ে যায়। গণেশ নগরের চুনপুড়ি নদীর সুইলিস গেট ভেঙে নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয় এলাকা।

পশ্চিম গণেশ নগরের মুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকে প্রায় ১০০টি পরিবার এখন জলের তলায়।নামখানা বাজার এলাকাতেও নদীর জল উঠে ছিল। এছাড়াও কুলপি ব্লকের মশামারী ও রাঙ্গাফলা এলাকাও নদীর জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।বেলপুকুর অঞ্চলের রাঙ্গা ফলায় বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকে রাস্তা ও পুকুর জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল।

এদিন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন, কুলপির যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তারিফ ইসলাম। তিনি জানান, মশামারীর প্রায় ৩০টি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে কুলপির বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার জানান,

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছাসের প্রভাবে হুগলি নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টা করা হবে।এছাড়াও সুন্দরবনের গোসাবার বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!