‘সম্পত্তি বৃদ্ধি মামলা একপেশেভাবে বদনামের চেষ্টা’, তোপ তৃণমূলের, পাল্টা বিরোধীরা

স্টাফ রিপোর্টার : তৃণমূলের ১৯ নেতা-মন্ত্রীর সম্পত্তি কী ভাবে বাড়ছে তা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। এবার এই সম্পত্তি বৃদ্ধি মামলা নিয়ে বিরোধীদের পালটা আক্রমণ তৃণমূলের।বুধবার বিধানসভা থেকে ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মলয় ঘটক, শিউলি সাহা, অরূপ রায় একসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সম্পত্তি বৃদ্ধি মামলা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেন ব্রাত্য-ফিরহাদরা। এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, ‘‘মানুষের কাজ করার জন্য আমরা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়েছি। মানুষের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়েছি। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আমাদের অপমান করা হচ্ছে।’’

তাঁর এ-ও দাবি, ‘‘নির্বাচনী হলফনামায় যাবতীয় সম্পত্তির হিসাব দিয়েছেন। তার পর কর দিচ্ছেন। বেনিয়মের অভিযোগ থাকলে আগে কেন কোনও তদন্ত হয়নি।এটা জনস্বার্থ মামলা নয়। রাজনৈতিক স্বার্থে করা মামলা। বিজেপির বি টিম হয়ে কংগ্রেস-সিপিএম আক্রমণ করছে। অর্ধেক তথ্য প্রকাশ করছেন কেন?”

ফিরহাদের দাবি, “পার্থ যা করেছেন, তাতে আমরা লজ্জিত। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, তৃণমূলের সবাই চোর।”এদিন রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেন, ‘‘মূল মামলায় তৃণমূলের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম রয়েছে ৷ অথচ সংবাদমাধ্যমের একাংশ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র তৃণমূলকে নিয়ে প্রচারে নেমেছে ।

’’ সাংবাদিক সম্মেলনে আদালতের মূল রায়ের কপির অংশ পড়ে শোনান ব্রাত্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলায় নাম রয়েছে সূর্যকান্ত মিশ্র, অধীর চৌধুরী, অশোক ভট্টাচার্য, আবু হেনা, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, নেপাল মাহাতোর মতো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও । তাহলে কেন শুধুমাত্র তৃণমূলকে বদনাম করা হচ্ছে !

তাঁদের দাবি, যদি বলা হয় কার কার আয় বেড়েছে, এই অবস্থায় সব রাজনৈতিক দলের কথাই বলা উচিত । বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে কালিমালিপ্ত করার প্রয়াস বন্ধ হওয়া উচিত ।তৃণমূলের এই সাংবাদিক বৈঠকের পর বিজেপি নেতৃত্ব জানান, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করবেন না।

এদিকে এই নিয়ে সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘চোরের মায়ের বড় গলা, নিজের অপকীর্তি ঢাকার জন্য আরও পাঁচটা নাম জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল অর্ধসত্য না গর্ধসত্য কী বলল জানি না৷ আদালত কী বলছে, তাই দেখুন। ব্রাত্য বসু বা ফিরহাদ হাকিম কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না৷ কোর্ট কী বলছে, সেদিকে নজর রাখুন।’’

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!