মাটিতে শুয়ে, ডাল- রুটি খেয়ে প্রথম রাত কাটল পার্থর

স্টাফ রিপোর্টার: ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ম্যান, মমতার মন্ত্রিসভারও নম্বর টু তিনি। এহেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঠাঁই হয়েছে জেলে। শিক্ষর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। রাজকীয় খাওয়া-দাওয়া, বিলাসবহুল বাসস্থান ছেড়ে ৭৫-এর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে।

প্রেসিডেন্সি জেলের ‘পয়লা বাইশ’ সেল ওয়ার্ডের দু’নম্বর সেলে ঠাঁই হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। এই ওয়ার্ডেই পার্থর পাশের সেলে রয়েছেন তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতো। ওয়ার্ডের অন্যান্য সেলের বাসিন্দাদের মধ্যে আছে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানো কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারি, জামালউদ্দিন নাসের-সহ বেশ কয়েকজন মাওবাদী নেতা।ইডি হেফাজতে থাকার সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের খাবারদাবারের বিষয়ে বিশেষ নজর রাখছিল ইডি।

তিন বেলার খাবার আসছিল বাইরে থেকেই। শুধু নিরামিষ নয়, খাদ্যতালিকায় ছিল আমিষ পদও। জেলে অবশ্য প্রাক্তন মন্ত্রীকে অন্যান্য কয়েদিদের মতো সাধারণ খাবারই খেতে হচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, জেলে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি পার্থকে। যে দু’নম্বর সেলে পার্থকে রাখা হয়েছে, সেখানে কোনও চেয়ার বা খাট নেই। রাতে মেঝেতেই কম্বল পেতে শুতে হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে। জেলের নিয়মানুসারে মোট চারটি কম্বল দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

এগুলো মেঝেতে পেতেই রোজ শুতে হবে এবং এগুলিকেই বালিশ হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। তবে এই সেলে কমোড রয়েছে।ইডি হেফাজতে যে সব জামাকাপড় পরতেন ও যা যা ওষুধ খেতেন, সেগুলি ইডি আধিকারিকরা জেলে দিয়ে এসেছেন বলে জানা গিয়েছে। জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে রুটি, ডাল আর সবজি খেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ওষুধও খেয়েছেন সময়মতো। তারপর তিনি শুয়ে পড়েছেন।

সকালে তাঁকে চা-বিস্কুট দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।এই পরিস্থিতিতে জেলে রাত কাটিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলে খবর। আর শুক্রবার রাতে পার্থ জেলেই নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন বলে সূত্রের খবর।জেলে রাত কাটাতে গিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আক্ষেপ,

‘‌কেন যে বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এলাম!‌ হয়ত রাজনীতিতে না এলে এই দিন দেখতে হতো না। রাজনীতিতে না এলে এই দিন দেখতে হত না আমাকে।’‌ অন্যদিকে, আলিপুর জেলার ২ নম্বর ঘরে রয়েছে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। তাঁকে বাড়িত নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদারকি করছে জেল সুপার স্বয়ং।

ভালো আচরণ করার জন্য বন্দিদের যে ঘরে রাখা হয়, তেমনই ঘর বরাদ্দ হয়েছে অর্পিতার জন্য। আদালতের নির্দেশমতো জল ও খাবার দেওয়ার আগে পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হচ্ছে। কেননা ইডি আদালতে নালিশ করেছিল অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের প্রাণসংশয় রয়েছে। রাতে কোনও খাবর খাননি অর্পিতা, সকালে চা-বিস্কুট খেয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!