‘পাঞ্চি’ পরে ভোট বিজেপি বিধায়কদের, কমিশনে অভিযোগ তৃণমূলের

স্টাফ রিপোর্টার: রাইসিনা হিলস দখলের লড়াই! কে হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে এনডিএ রাষ্ট্র পদপ্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু’র জয় নিশ্চিত। তবে খেলা যে কোনও মুহূর্তে ঘুরতেই পারে। বাংলা সহ কয়েকটি রাজ্যে ক্রশ ভোটিং কিছুটা হলেও চিন্তায় রেখেছে মোদী-শাহকে।আর সেই আশঙ্কাতেই হোটেলবন্দি করে রাখা হয়েছিল বাংলার বিজেপি বিধায়কদের।

রবিবার থেকে নিউ টাউনের একটি হোটেলেই আটকে ছিলেন বিধায়করা।সোমবার একটি বাসে করে সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে যাওয়া হয় ভোট দেওয়ার জন্য। হোটেলের বাইরে এদিন সকাল থেকেই ছিল রীতিমতো উৎসবের চেহারা।বিধায়করা এদিন পোশাকে কার্যত সবাইকে চমকে দেন।একেবারে আদিবাসী মানুষেরা যেমন পোশাক পড়েন সেভাবে বিধায়করা ধুতি-জামা এবং মাথায় পাগড়ি পড়েন।

এছাড়াও বেশ কয়েকজন বিধায়ক পাঞ্জাবি পড়েন। সঙ্গে ছিল একটা ওড়ান। তাতে বেশ কিছু লেখা রয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে। বিধায়করা বলেন, এটা আদিবাসী সমাজের একটা গর্বের দিন। বিজেপির পক্ষ থেকে ‘ইলেকশনে এজেন্ট’ করা হয়েছিল পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়কে। তিনিও ‘পাঞ্চি’ পরে ভোট পরিচালনার কাজ করছিলেন।বিষয়টি নজরে আসে তৃণমূল পরিষদীয় দলের।

সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিষয়টি নজরে আনেন নির্বাচন কমিশনের। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ফোন করে অভিযোগ জানান রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও নারী শিশু সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা।অভিযোগের সুরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘আমরা দেখলাম বিজেপি বিধায়করা ‘পাঞ্চি’ পরে ভোট দিতে এসেছেন। কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোটের সময় কোনও ‘সিম্বল’ নিয়ে ঢোকা যায় না।

যদিও এটা কোনও ‘সিম্বল’ নয়, কিন্তু এটা রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী যে সম্প্রদায়ের, তার সিম্বলিক। যা পরা যায় না।’’ শশী বলেন, ‘‘ভোটকেন্দ্র সব সময় নিরপেক্ষ রাখতে হবে। কিন্তু কোন ভাবেই বিজেপি পরিষদীয় দল ভোটকেন্দ্রকে নিরপেক্ষ রাখতে দিচ্ছে না। সেই কারণেই আমরা অভিযোগ জানিয়েছি।’’

যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এর জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আদিবাসী ভোট ভেঙে যাওয়ার ভয় পাচ্ছে তৃণমূল। তাই আমাদের বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ করছে ওরা। এ সব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। আমরা আদিবাসী সাংস্কৃতিকে সম্মান দিয়ে ‘পাঞ্চি’ পরে ভোট দিয়েছি। কোনও রাজনৈতিক প্রতীক সেখানে নেই।’’

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!