প্রাইভেট টিউশন বন্ধ হতেই ঘোড়ামারায় ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব নিল গ্রাম পঞ্চায়েত

বিশ্ব সমাচার, ঘোড়ামারা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইয়াসের ফলে ঘটে যাওয়া বন্যা, সঙ্গে কোভিড মহামারীর ভ্রুকুটি গত প্রায় দু’বছরে ঘোড়ামারাকে পিছিয়ে দিয়েছিল অনেকটাই। ফল স্বরূপ স্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামোর অবনমনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল এলাকার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও। দিন দিন বাড়ছিল স্কুলছুটের সংখ্যা।

ঘটছিল বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রমের মতো সামাজিক অপরাধ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে কমছিল ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও। এদিকে, সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে আর্থিক সঙ্গতি থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের যেমন প্রাইভেট টিউশন পড়া বন্ধের পথে, তেমনি যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে টিউশন পড়া সোনার পাথরবাটির নামান্তর।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সমস্যা সমাধানের অভিনব উপায় বের করলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের অন্তর্গত রাজ্যের ক্ষুদ্রতম গ্রাম পঞ্চায়েত ঘোড়ামারা।বুধবার থেকে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে পথ চলা শুরু হল অবৈতনিক ‘পঞ্চায়েতের পাঠশালা’র । স্থানীয় মিলন বিদ্যাপীঠে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জীব সাগর বলেন, এটি মূলত একটি পাঠ সহায়তা কেন্দ্র, যেখানে এসে পড়ুয়ারা পুঁথিগত পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষাও নেবে।

তিনি আরও বলেন, এই দ্বীপের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর প্রাইভেট টিউশন পড়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই। তাই পঞ্চায়েত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখানে পড়াশোনা করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনও অর্থ নেওয়া হবে না।
এদিন মিলন বিদ্যাপীঠে গিয়ে দেখা গেল, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ৫৩ জন ছাত্র-ছাত্রী পঞ্চায়েতের পাঠশালায় উপস্থিত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত পরিবারের।

আর তাদের পড়ানোর দায়িত্ব বিনা পারিশ্রমিকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন পঞ্চায়েতের কয়েকজন কর্মচারী এবং এলাকার কয়েকজন শিক্ষিত যুবক। সামাজিক উন্নয়নে ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই অভিনব উদ্যোগ পঞ্চায়েত ব্যবস্থাপনাকে নতুন অভিমুখে চালিত করার দিশা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!