মাছ চাষের প্রশিক্ষণে উপকৃত মথুরাপুরের গৃহবধূ জয়ন্তীদেবী

বিশ্ব সমাচার, মথুরাপুর: প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ করে ভালো লাভের মুখ দেখেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর-১ ব্লকের অন্তর্গত তাজপুর গ্রামের গৃহবধূ জয়ন্তী হালদার। তাঁর পরিবারের চারজন সদস্য। জয়ন্তীর স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে স্বামীর কাজ অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

ফলে বিকল্প রোজগারের সন্ধান করতে থাকেন জয়ন্তীদেবী। এই সময় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কৃষি, পশুপালন এবং মৎস্য সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষ ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। গ্রামের এক সহৃদয় কৃষকের মাধ্যমে জয়ন্তীর পরিচয় ঘটে ফাউন্ডেশনের কর্মী অনিন্দ্য মণ্ডলের সঙ্গে।

মূলত অনিন্দ্যর উদ্যোগে জয়ন্তী রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং অশোকনগর কৃষিবিজ্ঞান আয়োজিত পাঁচ দিনের মৎস্য চাষের উপর নিবিড় প্রশিক্ষণ নেন এবং প্রশিক্ষক ডক্টর অনিন্দ্য নায়েকের কাছ থেকে মিষ্টি জলের মাছ চাষের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে জেনে নেন। প্রশিক্ষণ পরবর্তী কালেও ফোনে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও তথ্য আদানপ্রদান করতে থাকেন জয়ন্তী। যা তাঁকে দক্ষ এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

আত্মবিশ্বাসী জয়ন্তী এরপর পারিবারিক পুকুরে বাটা, রুই, কাতলা, গ্লাসকাপ ও কিছু তেলাপিয়া মাছ ছাড়েন। গত পাঁচ মাসে অনেক টাকার মাছ বিক্রি করেছেন জয়ন্তী। লকডাউন পরবর্তী অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে তাঁর আর্থিক অবস্থার।

হালদার দম্পতি বলেন, আগে আমরা ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতাম। পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগের তুলনায় লাভের পরিমাণ একেবারেই নগণ্য ছিল। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞ মৎস্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আজ শুধু উৎপাদনই বাড়েনি, ব্যয় সাশ্রয়ী মাছ চাষের কৌশলটাও রপ্ত করেছি।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!