দঃ ২৪ পরগনায় করোনা পরিস্থিতি তেমন উদ্বেগজনক নয় : জেলাশাসক

সুদীপ কুমার দাস, আলিপুর : করোনা পরিস্থিতি তেমন ভাবে উদ্বেগজনক নয় বলে জানালেন, জেলাশাসক পি উল্গানাথন। ৯ তারিখ জেলা সদর দপ্তর আলিপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিকেল পর্যন্ত কলকাতায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৫৬৮৬ জন। উত্তর ২৪ পরগনায় ৫৫৫৩ জন, হাওড়ায় ২৯০৯ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৭২৪ জন। জেলার এই সংখ্যাটা দিয়ে বিচার করলে বলা যায় এখানে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা অনেক কম। শতকরা ২৪.৩০ শতাংশ। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রাজপুর, সোনারপুর , বারুইপুর, মহেশতলা পৌরসভা ছাড়াও ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, মগরাহাট ১ ও ২ এবং জয়নগর এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যেসব জায়গায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে সেখানে কনটেইনমেন্ট জোন করে আলাদা ভাবে নজর রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই জেলায় করোনার টিকা প্রথম ডোজ ১০০% সম্পূর্ণ হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ ৮০% হয়েছে । ২০ শতাংশ এখনও বাকি রয়েছে। যেসব ব্যক্তি এখনও দ্বিতীয় ডোজ নেননি, তাঁদের প্রয়োজনে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এই ডোজ দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। আর এই জন্য জেলায় ৪০০টি দল তৈরি করা হয়েছে। এই দলে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন। এই আবহাওয়ায় প্রায় প্রতিটি বাড়ির সদস্যদের জ্বর, সর্দি ও কাশি হচ্ছে। যাদের বেশি উপসর্গ, তাঁদেরকে টেস্ট করার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারে ১ লক্ষ ২০ হাজার মাস্ক বিলি করা হয়েছে। জেলায় মোট পাঁচ লক্ষ মাস্ক বিলি করা হয়েছে গত এক সপ্তাহে। ১০ লক্ষ মাস্ক বিলি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এই জেলায়। যারা বিক্রেতা তাদের ডবল মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৩ লক্ষ ছাত্র ছাত্রীর কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই দেড় লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে । করোনা প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া আছে। করোনা প্রতিরোধ সচেতনতার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবী, পুলিশ প্রশাসন ও প্রশাসন সবাই যৌথভাবে এই কাজ করছে। কোথাও মাইক প্রচার, কোথাও মিটিং ছোট ছোট বৈঠক করে করোনা সচেতনতার প্রচার করা হচ্ছে। প্রত্যেকটা গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে গাড়ি দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই করনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে গাড়ি প্রচার করছে। এছাড়াও পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং করছেন। যারা মাস্ক পরছেন না, তাদের মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও রাস টানতে ফাইন করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে জেলাশাসক জানিয়েছেন, মহামান্য হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী প্রতিটি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মেনে গঙ্গাসাগর মেলা করা হবে। বাবুঘাট থেকে যারা বাসে যাবেন তাঁদের সরাসরি লট নম্বর – ৮ বা নামখানায় নিয়ে যাওয়া হবে। যেসব বাফার জোন গুলো করা হয়েছে, সেখানে যাত্রী নামানো হবে না।প্রয়োজনে দাঁড় করানো হতে পারে, যদি কোথাও রাস্তায় যান চলাচলে অসুবিধা হয়। কোথাও একসঙ্গে ৫০ জনের জমায়েত করা হবে না। জলযান গুলোকে প্রতিনিয়ত স্যানিটাইজ করা হবে। গত বছরের মতো এবারেও গঙ্গাসাগর মেলায় আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা থাকবে। করোনা বিধি মেনে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার জন ই-স্নানের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলশাসক। এখনও পর্যন্ত জেলার ১৩টি সেফহোমে মাত্র দুইজন ভর্তি ছিলেন। জেলাশাসক আরও বলেন, এতদিন ব্লক হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, বিডিও অফিস ও জেলাশাসকের অফিসে করোনার জন্য কন্ট্রোল রুম ছিল। কিন্তু এখন থেকে আরও নজরদারি বাড়ানোর জন্য প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!