বকখালিতে গৃহবধুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

অমিত মণ্ডল ও রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, ফ্রেজারগঞ্জ: বকখালিতে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। পারিবারিক অশান্তির জেরেই বছর কুড়ির ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। রবিবার রাতে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারমিতা দাস নামে ওই গৃহবধূর দেহ উদ্ধার করে দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ডাক্তারবাবুরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরেই রাতেই আটক করা হয় মৃতার স্বামী রূপক দাসকে।

তাকে আটক করার পর পারমিতার বাপের বাড়িতে খবর দেয় ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ। সোমবার সকালে জয়নগর মজিলপুর থেকে পারমিতার বাপের বাড়ির লোকজন এসে রূপকের বিরুদ্ধে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ, শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচারের জেরেই পারমিতা আত্মহত্যা করেছেন।সোমবার দুপুরে রূপককে কাকদ্বীপ আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।এ বিষয়ে রূপকের বাবা জানিয়েছেন, তিনি তখন বাড়িতে ছিলেন না।

বকখালির কাছে একটি দোকানে কাজ করছিলেন। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখেন, বৌমা গলায় ফাঁস লাগিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে একটি মোবাইল নিয়ে রূপক এবং পারমিতার মধ্যে গন্ডগোল বাধে। তারপর মিটমাট হয়ে যায়। তারপরও কেন এই আত্মহত্যা, তা স্থানীয়রা বুঝতে পারছেন না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।বছর চারেক আগে প্রেম করে বিয়ে হয় বকখালির রূপক এবং জয়নগরের পারমিতার।

তাঁদের এক বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। পারমিতার বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, প্রায়ই পারমিতার ওপর অত্যাচার চালাত রূপক। প্রতিনিয়ত মদ্যপ অবস্থায় এসে তাকে মারধর করত। সালিশি সভা করে একাধিকবার মিটমাট করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রবিবার রাতে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার মাধ্যমে পারমিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা হতবাক। তাঁরা রূপকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!